বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ক্যামলং ছড়ার ওপর নির্মিত একমাত্র সেতুটি ২০২৩ সালের আগস্টে টানা বৃষ্টির ফলে দেবে যাওয়ার পর থেকে ওই এলাকার মানুষ তিন বছর ধরে তীব্র দুর্ভোগের শিকার। ভাঙা সেতুর ওপর কাদা-মাটি জমে যাওয়ায় হেঁটে চলাও ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দৈনন্দিন জীবন ও আয়ের ওপর প্রভাব
কুহালং ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া—ক্যামলংপাড়া, ভাঙ্গামুড়াপাড়া, বড়ুয়াপাড়া, মারমাপাড়া, ঢলুপাড়া, চেমীর মুখ ও গোয়ালিয়া খোলা—সহ প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা এই সেতুটি ব্যবহার করে জেলার সদর ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য স্থানে যানবাহন ও পণ্যমাল পরিবহন করে থাকেন। সেতুটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় স্থানীয়দের কৃষিকাজে উৎপাদিত ফলমূল ও শাকসবজি বাজারে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা
“সেতুটি বেহাল হয়ে পড়ার কারণে আমাদের এলাকার মানুষের কষ্টের সীমা নেই। যারা এই সেতু পার হয়, তাদের জন্য এটা একটা মরণফাঁদ।”
ক্যামলং এলাকার বাসিন্দা থুই নু চিং মারমা এভাবে অভিযোগ করেন। স্থানীয় জিপ গাড়িচালক মো. আলম বলছেন, তিন বছর ধরে সেতুটি নষ্ট। তিনি জানান, "গাড়ি নিয়ে এখন এই সেতু পার হতে পারি না।"
স্থানীয় প্রশাসনের মন্তব্য
কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংপু মারমা জানান, সেতু ধসে যাওয়ায় যানচলাচল ও মানুষের চলাচলে প্রচুর কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সরকারি উদ্যোগ ও সময়সীমা
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানান যে, ক্যামলং ছড়ার ওপর নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তার কথায়, দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা হবে।
- ভাঙা সেতু হয়ে যাওয়া: আগস্ট ২০২৩ (টানা বৃষ্টি ও বন্যার সময়)
- প্রভাবিত জনসংখ্যা: প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা
- নতুন সেতুর অনুমান ব্যয়: ৫ কোটি টাকা
কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন স্থানীয়রা?
ভাঙা সেতুতে হেঁটে চলাচলও বিপজ্জনক হলেও যানবাহন পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে:
- বাজারে পণ্য পৌঁছানো দেরি বা অসম্ভব হচ্ছে—কৃষকদের আয় কমছে;
- শিশু, রোগী ও বয়স্কদের জরুরি যাতায়াত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে;
- ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিদিনের যাতায়াত জটিল হচ্ছে;
- অতিরিক্ত দুরপথ পেরিয়ে দীর্ঘ দিক থেকে যাতায়াতে সময় ও খরচ বাড়ছে।
টেকসই সমাধান ও প্রত্যাশা
স্থানীয়রা দ্রুত সেতু নির্মাণ শুরু এবং অস্থায়ী প্রতিষ্ঠিত বিকল্প পথ বা সেতু ব্যবস্থার আবেদন জানাচ্ছেন যাতে মৌলিক জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করা যায়। এলজিইডির কার্যাদেশ প্রদানের ঘোষণায় আশার আলো দেখা গেলেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সময়সীমা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও অনুপলভ্য।
| বিষয় | অবস্থা/তথ্য |
|---|---|
| সেতুর ধ্বংস | আগস্ট ২০২৩-এ টানা বৃষ্টিতে দেবে যায় |
| প্রভাবিত এলাকা | ক্যামলংপাড়া, ভাঙ্গামুড়া পাড়া, বড়ুয়াপাড়া, মারমাপাড়া, ঢলুপাড়া, চেমীর মুখ, গোয়ালিয়া খোলা |
| আঁচড়া জনসংখ্যা | প্রায় ৫,০০০ |
| নির্মাণ ব্যয় (ঘোষিত) | ৫ কোটি টাকা |
পাঠকদের জন্য প্রযুক্তিগত ও ব্যবহারিক তথ্য
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের জন্য জরুরি করণীয়—নৌ-পথ নিরাপত্তা বজায় রাখা, ভারি বস্তুক ভেঙে ছোট ছোট করে পরিবহন করা, সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে ভাঙা সেতু পার হওয়া এবং শিশু ও বৃদ্ধদের একা পার হতে না দেওয়া। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ জানিয়ে দ্রুত অস্থায়ী ঢালু বা পদযান ব্যবস্থা প্রণয়নের দাবি চলমান রাখা উচিত।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে; বাস্তবে কাজ শুরু হলে—and সেই সময়সীমা প্রকাশ পেলে—স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক হতে পারবে। স্থানীয়ভাবে এ সংবাদটি অনুসরণ করে উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি জানানো হবে।
উম্মে হাবিবা
বান্দরবান প্রতিনিধি, WE NEWS