বান্দরবানের কুহালং ও নোয়াপতং ইউনিয়নে কয়েক বছর ধরে ধসে পড়ে থাকা দুটি সেতুর কারণে আশপাশের মানুষদের দৈনন্দিন জীবন তীব্রভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। সড়ক ও সেতুর অব্যবস্থাপনা, বিকল্প পথের অনুপস্থিতি ও বর্ষাকালে বাড়তি ঝুঁকি—এসব মিলিয়ে সাত থেকে দশ হাজারেরও বেশি মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর পরিণতি ও দৈনন্দিন প্রভাব
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে পাহাড়ি ঢলে এই সেতুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কোনও কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ শুরু করা হয়নি। ফলে এলাকার মানুষ অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে চলাচল করছেন। বিশেষত বর্ষাকালে কাদা ও পিচ্ছিল পথে হেঁটে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এ সমস্যার সরাসরি প্রভাব:
- শিক্ষা — শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই ঝুকি নিয়ে দুর্বল ব্রিজ পেরিয়ে স্কুলে যায়; অনেকে অনিয়মিত হয়ে পড়ছে।
- স্বাস্থ্যসেবা — রোগী হাসপাতালে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়, জরুরি পরিস্থিতিতে ভোগান্তি বাড়ে।
- অর্থনীতি — কৃষিপণ্য মরসুমে বাজারে নিয়ে যাওয়ায় বাধা পড়ে, লোকাল ব্যবসায় প্রভাব পড়ে।
কোন কোন গ্রাম ও মানুষ প্রভাবিত
সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে প্রায় প্রায় দশ হাজারো মানুষ বাস করেন এবং ওই ব্রিজই এগুলোর প্রধান যোগাযোগ পথ। রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের ওই ব্রিজটি দিয়ে ছয়টি গ্রাম প্রতিদিন চলাচল করে; সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ নির্ভরশীল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
| ইউনিয়ন | প্রভাবিত জনসংখ্যা (স্থাণীয় তথ্য) | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| কুহালং | প্রায় ১০,০০০ | সেতু ধসে; অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার |
| নোয়াপতং | প্রায় ৫,০০০ | বৃহৎ অংশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন; বিকল্প পথ নেই |
স্থানীয়দের দাবি ও কর্তৃপক্ষের অবস্থা
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা স্তরে জানিয়েও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কুহালং ও নোয়াপতংয়ের জনপ্রতিনিধিরা সেতু দুটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন; তবু প্রকল্প বা তহবিল সংক্রান্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে তাঁরা বলছেন।
কিছুকাল আগের বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ও স্রোত সেতুগুলোতে বড় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তৎক্ষণাত দুর্ঘটনার আশঙ্কা ও দৈনন্দিন ঝুঁকি এখানকার মানুষকে অস্থির করে তুলেছে।
নিরাপত্তা ও প্রতিকারমূলক পরামর্শ
এ পরিস্থিতিতে কিছু ব্যবহারিক বিষয় যা লোকাল বাসিন্দাদের সহায়ক হতে পারে:
- বৃষ্টির সময় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ক্রস করা এড়াতে অনুরোধ; বিকল্প পথে যেতে পারলে তা বেছে নিন।
- জরুরি রোগী বা গরিষ্ঠ মানুষের পরিবহনে সহায়তার জন্য গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্থানীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করুন।
- স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে পুনরায় দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করুন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি অবিলম্বে মেরামত বা পুনর্নির্মাণ না করা হয় তবে বড় ধরনের মানবিক সমস্যা তৈরি হবে। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও গ্রামের অর্থনীতি দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই খবর প্রচারের সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দাবি করছেন—দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও তহবিল নিশ্চিত করলে পরিস্থিতি স্বল্পসময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ হবে।
বান্দরবানে চলমান এই অব্যাহত দুর্ভোগ স্থানীয় প্রশাসন, পূর্ত দপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের কথা বলছে। নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা আনা না হলে শুধু আজকের প্রভাবেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা—এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও সামাজিক- অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
উম্মে হাবিবা
বান্দরবান প্রতিনিধি, WE NEWS