বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ১১তম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ সোমবার (২৪ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জেলা পরিষদের সভাকক্ষেই অনুষ্ঠিত যোগদান ও দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মিসেস মাম্যাচিং ও অন্যান্য সদস্যরা স্বাক্ষরের মাধ্যমে তাদের ভূমিকা officieelভাবে করতে দেখা গেছে।
নতুন রেঞ্জ, পুরনো লক্ষ্য: সেবা ও সমন্বয়
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল মনসুরসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। নতুন পরিষদের সদস্যরা ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে এবং সমন্বয় ও উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
“বান্দরবান পার্বত্য জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিষদের সকল সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে,”
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মিসেস মাম্যাচিং অনুষ্ঠানে দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়েছেন যে পরিষদের কাজ হবে দল, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের উর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিশ্চিত করা।
সংগঠন ও কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য
গত ২০ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৫ সদস্যের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১৪ সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- চেয়ারম্যান: মিসেস মাম্যাচিং
- সদস্যসংখ্যা: ১৫ (চেয়ারম্যানসহ)
- আনুষ্ঠানিক পুনর্গঠন প্রজ্ঞাপন তারিখ: ২০ আগস্ট
- জরুরি লক্ষ্য: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও জনকল্যাণ
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| পরিষদের ধরণ | অন্তর্বর্তীকালীন |
| সদস্য সংখ্যা | ১৫ |
| নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| দায়িত্ব গ্রহণ তারিখ | ২৪ আগস্ট |
প্রধান অগ্রাধিকার: সার্বিক উন্নয়ন ও পরিষেবা পৌঁছে দেয়া
নবনির্ণীত পরিষদের কথায়, বান্দরবানের উন্নয়ন কার্যক্রমকে দ্রুততা ও স্বচ্ছতায় এগিয়ে নেয়াই তাদের অগ্রাধিকার হবে। তিনি এবং অন্য সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন যে পর্যাপ্ত সমন্বয় ও পরিকল্পনার মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের জীবনমান দ্রুত উন্নত করা যাবে এবং সরকারি সেবা প্রত্যক্ষভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, বান্দরবান পার্বত্য জেলা বহু বিচিত্রชาติ ও সম্প্রদায়ের বসবাস স্থান। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় প্রয়োজন ও সংস্কৃতিগত বৈচিত্র্যকে বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে জেলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্টরা বারবার উল্লেখ করেন। নতুন পরিষদের পক্ষ থেকেও সেই দিকটিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা এসেছে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
স্থানীয় উন্নয়ন বাস্তবায়নে যে সমস্যাগুলো বারবার চিহ্নিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মৌসুমি যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার বিস্তৃতি ও শিক্ষার মান উন্নয়ন। নতুন পরিষদের কাছে স্থানীয়রা দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের প্রত্যাশা রাখছেন।
পরিষদের কার্যক্রম কিভাবে বাস্তবে নাড়াচাড়া করবে এবং কোন প্রাধান্যভিত্তিক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—এসবই নির্ধারণ করবে আগামী কার্যনির্বাহী পরিকল্পনা। প্রতিষ্ঠিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন নতুন পরিষদের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পরিষদকে সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এখন অপেক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতৃত্বের হাতে—কতটা দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে তারা প্রতিশ্রুত উন্নয়ন ও সেবা পৌঁছে দিতে পারবে।
বান্দরবান জেলা থেকে উম্মে হাবিবা, WE NEWS