পিরোজপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মুহাম্মদ তালেবুর রহমান (পিপিএম-সেবা)। রবিবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর এই বদলি আদেশ দেওয়া হয়।
পেশাগত অভিজ্ঞতা ও পূর্বতন দায়িত্ব
নতুন নির্দেশনাতে বলা হয়েছে, তালেবুর রহমান এর আগে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যে ছিলেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগে উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ২০২৬ সালের মার্চে তিনি লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগেও তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) হিসেবে কাজ করেছেন। পুলিশের চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি ২০০৬ সালে ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দিয়ে। এরপর ২০১৩ সালে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান এবং ২০১৮ সালে পুলিশ সুপারের পদে উন্নীত হন।
শিক্ষাগত পটভূমি
শিক্ষাগতভাবে তালেবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
স্থানীয় প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
নিয়োগের ঘোষণা ছড়ালে জেলার বিভিন্ন মহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি আস্থা ও প্রত্যাশা দেখা যায়। স্থানীয়রা মনে করছেন নতুন পুলিশ সুপার স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও সাধারণ অপরাধ দমন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেবেন।
- আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অপরাধ দমন
- মাদক নির্মূল ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ
- পুলিশ-জনতা সম্পর্ক উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা
পদসংস্থান ও বদল সম্পর্কিত তথ্য
নতুন নিয়োগের পাশাপাশি পিরোজপুরের আগের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| নাম | মুহাম্মদ তালেবুর রহমান (পিপিএম-সেবা) |
| চাকরিতে যোগদান | ২০০৬, ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডার |
| গুরুত্বপূর্ণ পদ | ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ডিসি, লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ডাক বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনীতি বিভাগ (বিএসএস ও এমএসএস) |
নিয়োগের প্রভাব ও সামনে করণীয়
পিরোজপুর জেলা বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে—মাদক, যানজট, বাল্য ও কিশোর অপরাধসহ সীমিত সম্পদে স্থানীয় প্রশাসনকে কাজ করতে হয়। নতুন পুলিশ সুপার কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে এসব সমস্যার মোকাবিলা করবেন সেটাই এখন কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, community policing বা জনগণের সাথে নিয়মিত সংলাপ এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের প্রতি গুরুত্ব দিলে সীমিত সময়ে ফল পাওয়া সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
নতুন পুলিশ সুপার তাঁর অফিস নেয়ার পর জেলা প্রশাসন, স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কী ধরনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন, সেটাই পরবর্তী সময়ের মূল সূচক হবে।
পিরোজপুরবাসী আশা করছেন নতুন সুপার দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করবেন এবং মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবেন।