পিরোজপুর সদর উপজেলার পুরোনো ও পরিচিত বিনোদনকেন্দ্র ডিসি পার্কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার নয়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হলে শহরের সম্মিলিত জনজীবনে নতুন রঙ যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা ও ব্যয়
জেলা পরিষদের সূত্রে জানা গেছে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এটি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে এবং জেলা পরিষদই প্রকল্পটির তদারকি করবে।
প্রকল্প উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। পক্ষভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজটি করতে নিয়োজিত করা হয়েছে মেসার্স খান ট্রেডার্স; প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে রিপোর্টে নাম উল্লেখ রয়েছে জহিরুল ইসলাম।
কী কাজ করা হবে?
সরকারি নথি ও জেলা পরিষদের বিবরণের ভিত্তিতে পার্কসংক্রান্ত যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা মোটামুটি নিম্নরূপ:
- পার্কের অবকাঠামো সংস্কার ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন।
- সৌন্দর্যবর্ধন, সবুজায়ন ও পথচিহ্নের নতুন বিন্যাস।
- দর্শনার্থীসুবিধা বৃদ্ধির জন্য বসার জায়গা ও ছোট খাটো স্যানিটেশন ব্যবস্থা ঠিক করা।
জেলা পরিষদের অভিমত অনুযায়ী, এসব কাজ শেষ হলে পার্কটি «দর্শনার্থীবান্ধব» এবং পরিবেশগতভাবে আরও আকর্ষণীয় হবে—স্থানীয়রা তাই প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
ডিসি পার্ক পিরোজপুর শহরের এক পরিচিত পাবলিক স্থান। বহু পরিবার-পরিজন ছুটি বা সন্ধ্যার সময় এখানে বেড়াতে আসে। সংস্কার হওয়ার পর শহরের ভেতর ও আশেপাশের এলাকা থেকে আগত মানুষের সময় কাটানোর সুযোগ বাড়বে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও বিক্রেতারাও অপেক্ষাকৃত সুবিধা ভোগ করতে পারেন বলে ধারণা করছেন অনেকে।
অপরদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও কাজের সময়সীমা মেনে চলা স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে নাগরিকদের দায়বদ্ধ তত্ত্বাবধানে কাজ সম্পন্ন করার দাবি আছে।
প্রকল্প তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রকল্প | পিরোজপুর ডিসি পার্ক সংস্কার ও উন্নয়ন |
| উদ্বোধন | ১৭ আগস্ট (জেলা পরিষদ উদ্যোগে) |
| উদ্বোধক | আলমগীর হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ |
| বাজেট | ১৪,২৫,০০০ টাকা (প্রাক্কলিত) |
| ঠিকাদারি | মেসার্স খান ট্রেডার্স (স্বত্বাধিকারী: জহিরুল ইসলাম) |
| অর্থবছর | ২০২৪-২০২৫ |
পজিটিভ দিক ও উদ্বেগ
পরিবেশবাদী ব্যঞ্জনা রেখে উপযুক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বসবাসকারী ও পর্যটকদের জন্য পার্কটি সুশৃঙ্খল বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে শহরের মৌলিক পর্যটনচিত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে—ছুটির দিনে পারিবারিক সমাগম বাড়ানো থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের বৃত্তাকর্ষণ পর্যন্ত।
তবে তদারকি ও গুণগত নিয়ন্ত্রণ না থাকলে দ্রুত অপচয়, অনিয়ম বা পরিকল্পনার বাইরে খরচ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। জেলা পরিষদের প্রশাসক ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে গতি আনতে কাজের মাত্রা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন বলে সূত্রে বলা হয়েছে; তা বাস্তবে কিভাবে মানা হচ্ছে, সেটাই দেখতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মনোযোগ থাকবে—কাজের অগ্রগতি, সময়সূচি ও নির্ধারিত বাজেট যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা সে দিকে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে তারা ধারাবাহিকভাবে তদারকি করবে এবং স্থানীয়দের মতামত গ্রহণ করবে।
পিরোজপুর ডিসি পার্কের সংস্কার কাজে এলাকাবাসী, পর্যটক ও দোকানপাট—সবাই যে সুফল চান তা নিশ্চিত করতে সরকারি তদারকি ও স্বচ্ছতা থাকবে বলে আশা করেন স্থানীয়রা।