পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ২০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশে উপযুক্ত খেলার মাঠ নেই। ফলস্বরূপ উপজেলার প্রায় ২১ হাজার ৭শো কোমলমতি শিক্ষার্থী নিয়মিত খেলাধুলা, চিত্তবিনোদন এবং বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পরিস্থিতির চিত্র
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায় অনেকে সম্পূর্ণভাবে মাঠশূন্য, আর যেগুলোতে সামান্য খোলা জায়গা আছে সেগুলো খেলাধুলার জন্য নিরাপদ নয়। অনেক বিদ্যালয়ের পাশে ব্যস্ত সড়ক কিংবা পুকুর থাকায় খোলা জায়গা থাকলেও শিশুরা সেখানে খেলতে পারছে না। ফলে টিফিন ও বিরতির সময় শিশুদের শ্রেণিকক্ষেই বসে থাকতে দেখা যায়, যা তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।
কোন কোনো স্কুলে ঝুঁকি বেশি
উদাহরণ হিসেবে মঠবাড়িয়ার ৫৬ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সরাসরি ব্যস্ত সড়ক চলে। এখানে কোনো নিজস্ব খেলার মাঠ না থাকায় টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা সড়কের আশপাশে ছোটাছুটি করে, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একইভাবে ৮৭ নম্বর মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুকুরঘেঁষা; পুকুর থাকায় বিশেষ করে সাঁতার না জানা শিশুদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সবাই এই সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। ৮৭ নম্বর মধ্য সোনাখালীর প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম বলেন,
“খেলার মাঠ না থাকায় কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন।”
এক শিক্ষার্থী আদনান আল আহনাফ বলেন, স্কুলে খেলার জায়গা না থাকায় টিফিনের সময় শ্রেণিকক্ষেই বসে থাকতে হয় এবং বাইরে গেলে রাস্তার কারণে দুর্ঘটনার ভয় থাকে।
প্রভাব ও পরিণতি
খেলার সুযোগ অনুপস্থিত থাকার ফলে শিশুরা নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যাপ্ত খেলাধুলা না করলে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা, দলগত কাজের শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও আন্তঃবিদ্যালয় খেলাধুলা আয়োজনও কঠিন হয়; ফলে প্রতিভা আবিষ্কার ও বিকাশে বাধা রয়েছে।
কী বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়ায় ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অধীনে মোট ২০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু মাঠ সংক্রান্ত কোন সুস্পষ্ট তথ্য বা পরিকল্পনার উল্লেখ করা হয়নি। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, কেবল প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস নয়—বাস্তবিক জমি বরাদ্দ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অর্থায়ন জরুরি।
সমাধান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
এই সমস্যার সমাধানে কয়েকটি বাস্তবানুগ পদক্ষেপ জরুরি:
- বিদ্যালয়ের জন্য খেলার জমি নির্ধারণ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
- যেখানে জমি নেই সেখানে কমিউনিটি মাঠ বা নিকটস্থ নিরাপদ জায়গায় শিশুরা খেলতে পারার ব্যবস্থা করা।
- পুলিশ, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষা দপ্তরের সমন্বয়ে সড়ক-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জলাশয় সম্পর্কিত حفاظত্তা উন্নয়ন।
- বিদ্যালয়ের জরুরি অবস্থায় আধুনিক খেলার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ প্রদান।
| বিষয় | পরিমাপ |
|---|---|
| সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | ২০৭ |
| আনুমানিক শিক্ষার্থী | ২১,৭০০ (সূত্র: উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস) |
| ইউনিয়ন ও পৌরসভা | ১১ ইউনিয়ন, ১ পৌরসভা |
স্থানীয় বাস্তুচিত্র ও আহ্বান
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিশুদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সার্বিক শারীরিক ও শিক্ষাগত উন্নয়ন থমকে যাবে—এটাই উদ্বেগজনক। অভিভাবকরা চান—শুধু কথা নয়, দ্রুত বাস্তব কর্মসূচি দেখাতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে খেলার সুযোগ বৃদ্ধি করা না হলে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়—এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।