পিরোজপুরের নেছারাবাদের স্বরূপকাঠি অনলাইন প্রেসক্লাবে আজ শুক্রবার হেযবুত তওহীদ পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বক্তব্য এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা আইনগত ও নিরাপত্তাগত ব্যবস্থা দাবি করেছে।
সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের বরিশাল অঞ্চল সভাপতিও রুহুল আমীন মৃধা। সভার সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. সুমন তালুকদার। অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগ হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. শফিকুল আলম উখবা ও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি জানায়, ১ আগস্ট নোয়াখালীর জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতের প্রতিনিধিদের আয়োজিত সমাবেশে তাদের বিরুদ্ধে ''উসকানিমূলক, কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা'' বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং এক পর্যায়ে তাদের ‘‘আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে’’ দেশের বাইরে উৎখাত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করে।
কারিগরি অভিযোগ ও আশঙ্কা
হেযবুত তওহীদের নেতারা দাবি করেছেন, নোয়াখালীর ঘটনার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে—হাট-বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা—হ্যান্ডবিল বিতরণ, বক্তৃতা, জুমার খুতবা ও ওয়াজের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই প্রচারণার কারণে সংগঠনের সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, মিথ্যা প্রচারণার ফলে তাদের কার্যালয়, শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক স্থাপনা বা চলমান প্রকল্পে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ করা এবং সংগঠনের কার্যালয় ও সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।
কী দাবি করা হলো?
- উসকানি ও ফতোয়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া।
- মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ করা।
- হেযবুত তওহীদের কার্যালয় ও সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা সম্পর্কে জোর দিয়ে বলেছেন যে, তাদের সংগঠন একটি অরাজনৈতিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলন, যা আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তারা হয়রানির শিকার হওয়ারও অভিযোগ এনে দাবি করেন, কোনো সদস্য আদালতের রায় অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হয়নি।
খণ্ড তথ্য — অভিযোগ ও প্রতিকারের দাবি
| বিষয় | হেযবুত তওহীদের দাবি |
|---|---|
| মুখ্য অভিযোগ | হেফাজতের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে মিথ্যা ও উসকানিমূলক প্রচারণা |
| নিরাপত্তা উদ্বেগ | সদস্য ও পরিবারের নিরাপত্তা, কার্যালয় ও প্রকল্পে হামলার আশঙ্কা |
| চাওয়া হয়েছে | আইনি ব্যবস্থা, প্রচারণা বন্ধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ |
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা দাবি করেছেন যে, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচির নামে যাতে ভেদাভেদের তৎপরতা না চালানো হয় এবং কোনও সংগঠনকে অবৈধভাবে দুষ্প্রচারের মাধ্যমে গিহীনভাবে বিপদে ফেলতে না পারে—তার জন্য প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
পিরোজপুর জেলা ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ধর্মীয় সংগঠন ও সামাজিক আন্দোলনগুলোকে নিয়ে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, তা স্থানীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রশাসন, বিদ্যমান আইন ও স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে দ্রুত অপপ্রচার বা অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
অন্যদিকে হেযবুত তওহীদের দাবি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া যে অভিযোগগুলো আছে—তাতে তারা সত্যতা নেই বলে জানায় এবং বলেছেন, যদি কারও বিরুদ্ধে কোন দুর্ব্যবহার বা বেআইনী কার্যকলাপ প্রমাণিত হয়, আইন নিজেই যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
এ ঘটনার মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন কবে কোন পদক্ষেপ নেবে এবং উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়া কিভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে—তা এই মুহূর্তে দেখার বিষয়। স্থানীয় জনগণ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের বিবাদ দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা রাখে যাতে শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে।
নোট: প্রতিবেদনে কেবল ঐ সংবাদ সম্মেলনে দাখিল করা তথ্য ও বক্তব্যকে ভিত্তি করা হয়েছে; অভিযোগের বিপরীতে হেফাজতে ইসলামের কোনো প্রতিক্রিয়া এই রিপোর্ট তৈরীর সময় পাওয়া যায়নি।