পিরোজপুর শহরে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকবিরোধী ব্যক্তি-সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। টাউন ক্লাব থেকে শুরু করে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রাঙ্গণে শেষ হওয়া পদযাত্রা ও স্টিকারিং কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণি থেকে প্রতিনিধিরা, যারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
পদযাত্রার রূপরেখা ও কার্যক্রম
প্রায় পথচারী ও ব্যানার-ব্যান্ড নিয়ে টাউন ক্লাব থেকে পদযাত্রাটি শুরু করে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ও বাজার অতিক্রম করে কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে। পথে দোকান, মাছ বাজার, চা-পান ও সিগারেট বিক্রির দোকানে মাদকবিরোধী ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত স্টিকার লাগানো হয় এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। স্টিকারগুলোর মূল বার্তা ছিল কলেজ শিক্ষার্থীদের অনবাঞ্ছিত দোকান অবস্থান থেকে বিরত থাকা এবং কিশোর বয়সী ব্যক্তিদের কাছে তামাক ও সিগারেট বিক্রি বন্ধ রাখা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মনে করিয়েছেন যে মাদকাসক্তি তরুণ প্রজন্ম ও পরিবারকে ভেঙে দেয়ার মতো বাস্তব সংকট এবং সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাঁরা বিভিন্ন দিক থেকে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন—পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ জরুরি বলেই তাগিদ দিয়েছেন।
অংশগ্রহণকারী ও তাদের ভূমিকা
কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগের আহ্বায়ক ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান নাসিম আলী, প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম, সুজনের সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুর রহমান, দি-পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহেদী হাসান, এবং পজিটিভ পিরোজপুরের সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) মো. হাবিবুর রহমান ও কলেজ শিক্ষকবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য সক্রিয় নজরদারি এবং সামাজিক সতর্কতা বাড়ানো অপরিহার্য। বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচের কিশোর-কিশোরীদের কাছে তামাকজাতীয় পণ্য বিক্রি রোধে দোকান-দোকানদারদের সর্তক করা হয়।
- স্টিকারিং: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, মাছবাজার, চা-পান ও সিগারেট বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে।
- লিফলেট বিতরণ: পথচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে।
- পদযাত্রা: টাউন ক্লাব থেকে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ পর্যন্ত—জনসাধারণকে আকর্ষণ।
স্থানীয় প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ
কর্মসূচিটি সাম্প্রতিক সামাজিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তব প্রভাব রাখতে হলে কেবল সচেতনতাই যথেষ্ট নয়—দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকরী সহযোগিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করানোও অত্যাবশ্যক।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, স্টিকার লাগানো এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়াতে কিছুটা সহযোগিতা করা সম্ভব, কিন্তু নিয়মিত বাস্তবায়ন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা না থাকলে উদ্যোগ সঞ্চালন ঝঞ্ঝাট পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও উপযুক্ত বিকল্প কার্যক্রম তৈরির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে যাতে মাদকাসক্তির উৎস খুঁজে পাওয়া যায় এবং তা প্রতিরোধ করা যায়।
| প্রতিনিধি/সংগঠন | ভূমিকা |
|---|---|
| রফিকুল ইসলাম | সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব |
| মো. মনিরুজ্জামান নাসিম আলী | আহ্বায়ক, সিনিয়র সাংবাদিক; সচেতনতামূলক উদ্যোগের নেতৃত্ব |
| মেহেদী হাসান | চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট; ব্যবসায়িক অংশগ্রহণ উৎসাহিত |
স্থানীয় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের সচেতনতা কর্মসূচি বাড়লে যুবসমাজে ইতিবাচক বদল আসবে। তবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মিত ভাবে উদ্যোগগুলো চালিয়ে যেতে এবং পরিবেশ-ভিত্তিক সমাধান আনার ওপর জোর দিতে হবে—নাহলে একক কর্মসূচি সীমিত ফলই আনতে পারে।
পিরোজপুরে মাদকবিরোধী এই কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কৌশল গঠনের এক প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে—বিশেষ করে যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি যুক্ত।