বাংলাদেশ পিরোজপুর পিরোজপুর (39)

১৭ বছরের রাজপথের ত্যাগে পরিবার কাটা — পিরোজপুরে রিয়াজ–রশমির দুর্দশা

বিএনপির বিরোধী রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৭ বছর সক্রিয় থাকার পরও ব্যক্তিগত জীবনে সংকট ও আর্থিক কষ্টে দিন কাটছে পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রিয়াজ মাতুব্বর ও তাঁর স্ত্রী সাবেক ছাত্রদল নেত্রী স্বাম্মী আক্তার রশ্মির। মামলা, গ্রেফতার ও কারাভোগ তাদের রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি; তবে পরিবারের ক্ষত এখনও সারেনি।

১৭ বছরের রাজপথের ত্যাগে পরিবার কাটা — পিরোজপুরে রিয়াজ–রশমির দুর্দশা
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

পিরোজপুর সদর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ-সংগ্রামের পরও ব্যক্তিগত জীবনে স্থিতি ফিরেনি মো. রিয়াজ মাতুব্বর ও তাঁর স্ত্রী সাবেক ছাত্রদল নেত্রী স্বাম্মী আক্তার রশ্মি—এমন তথ্য জানিয়েছেন তাঁরা নিজে। রাজনৈতিক আন্দোলন, মামলা, হামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা জীবনে নানাভাবে ছাপ ফেলেছে; তবু দলীয় সুসময়ের মুহূর্তগুলোতে রিয়াজ–রশমির ভাগ্য বদলায়নি বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ক্ষতি

রিয়াজ জানান, ২০১৩ সালে তিনি কারাভোগের মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তিও করেছিলেন। ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের হাতে আটক, নির্যাতন ও কারাবরণের স্মৃতিও তাঁর আছে। এরপরেও বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় থাকার দাবি জানান তিনি।

তাঁর কথায়, মামলা, হামলা ও কারাভোগ তাঁকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি; কিন্তু এই রাজনীতির ফাঁকে পরিবারকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে—"আমি কারাগারে থাকলে স্ত্রীকে স্বামী ছাড়া এবং সন্তানকে বাবাকে ছাড়া থাকতে হয়েছে।"

স্ত্রীর অভিজ্ঞতা ও ত্যাগ

সাবেক ছাত্রদল নেত্রী স্বাম্মী আক্তার রশ্মি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গর্ভে সন্তান থাকাকালীনও তিনি মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়েই মিছিল ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছেন। সেই আবেগ থেকেই সন্তানকে রাখেন "খালেদা খানম পুতুল"। তিনি ছাত্রদের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজনের মতো কাজও করেছেন, যা বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চালিয়ে যাওয়া কঠিন বলে জানান।

“আমরা করুণা চাই না, পদ-পদবির জন্যও রাজনীতি করিনি। শুধু চাই, দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিল তাদের ত্যাগ যেন ভুলে যাওয়া না হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর আজ আমাদের বলতে হচ্ছে আমরা ভালো নেই।”

প্রভাব ও বর্তমান চাহিদা

রিয়াজ–রশমির পরিবার বর্তমানে সন্তানদের শিক্ষাব্যয়, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে—এমন বাস্তবতা তাঁরা তুলে ধরেছেন। কোনো ধরনের কাউন্সেলিং বা পুনর্বাসনের কথা সুত্রগুলোতে বলা না থাকলেও তারা দাবি করেছেন, দলীয় সুসময়ের সময়ে যারা সংগ্রামে ছিল তাদের দাবি-অপেক্ষাকে সংরক্ষণ করা উচিত।

পিরোজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শহীদুল্লাহ শহীদ বলেন, রিয়াজ–রশমি দম্পতি দলের দুর্দশার সময়ে কাজ করেছেন; তাই দলের সুসময়ে তাদের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক প্রভাব

রিয়াজ–রশমির দীর্ঘ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও বারবার কারাবরণ উল্লেখ করে এই দম্পতি যে মানসিক ও আর্থিক চাপে আছে তা স্থানীয় রাজনীতিতে এক পরিচিত বাস্তবতা—যেখানে বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর নানা নিপীড়ন ও মামলা-প্রক্রিয়া রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রেক্ষাপটে পরিবারের উপর প্রয়োগকৃত চাপ ও সন্তানদের অনিশ্চয়তা সঙ্গতভাবেই উঠে আসে।

  • সময়ের উল্লেখ: ১৭ বছর রাজনৈতিক সক্রিয়তা।
  • গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: ২০১৩ সালে কারাভোগকালে এসএসসি উত্তীর্ণ; ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই গ্রেফতার ও নির্যাতনের ঘটনা স্মরণীয়।
  • সামাজিক কাজ: ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন, লিফলেট বিতরণ, মিছিল-দোয়া মাহফিল।

সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন

বছর ঘটনা
২০১৩ কারাভোগের মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তি।
২০১৬ (২৩ জুলাই) রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় আটক, নির্যাতন ও কারাবরণ।
বর্তমান আর্থিক সংকট, সন্তানদের শিক্ষাব্যয় ও চিকিৎসা খরচ জড়ানো চাপ।

রিয়াজ–রশমির অভিজ্ঞতা স্থানীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর রাজনৈতিক ত্যাগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে তার এক সরল উপস্থাপনা। চিকিৎসা, শিক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহায়তা না থাকলে দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক নিষ্প্রভতা এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির চাপ বাড়তেই পারে—এ উপলব্ধি স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে।

রিয়াজ–রশমি জোড়া দাবি করেন যে তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রাম 'ভুলে যাওয়া' উচিত নয়; পাশাপাশি তাঁরা করুণা চান না, কেবল দলের এবং সমাজের পক্ষ থেকে সুসংহত মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার আবেদন রাখেন। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ত্যাগী কর্মীদের ক্ষত সারানোর ব্যবস্থায় এখনও তৎপরতা কম।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পিরোজপুর জেলা ও উপজেলাভিত্তিক দলগুলোর কাছ থেকে কিভাবে সমাধান আসবে তা বলার কথা না থাকায়, রিয়াজ–রশমির অভাব-অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

39পিরোজপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো পিরোজপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব