রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুশলতা ও উষ্ণতায় ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা শনিবার (২৯ আগস্ট) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নিয়ে নবীনদের কাছে শিক্ষা, গবেষণা ও ক্যাম্পাস জীবনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
উপস্থিতি ও সঞ্চালনা
প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ. অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম. সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক আতিকুর রহমান ও অধ্যাপক মোর্শেদা বিনতে হাবিব, এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশীদ আলম.
নবীনদের অংশগ্রহণ ও বক্তব্য
নবীন শিক্ষার্থীরা ফুল ও শিক্ষা‑সামগ্রী হাতে পেয়েছেন, পাশাপাশি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন, শিক্ষা ও গবেষণা প্রসঙ্গে করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নির্দেশনা দিয়েছেন। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের বি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শুকরিয়া নবীনদের পক্ষে বক্তব্য দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ ও নির্দেশনা
অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতির পাশাপাশি ক্যাম্পাসে থাকা বিভিন্ন সুযোগ‑সুবিধা, গবেষণার গুরুত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি সম্পর্কে ধারণা দেন। প্রশাসনিক এবং শিক্ষাগত স্তরের উপস্থিত ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও প্রকাশনায় মনোযোগ বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন।
উপস্থিত বিশিষ্ট কর্মকর্তাসহ শ্রেণীবিন্যাস
| পদের নাম | নাম |
|---|---|
| প্রধান অতিথি | অধ্যাপক মামুন আহমেদ (ইউজিসি চেয়ারম্যান) |
| সভাপতি | অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম (উপাচার্য) |
| উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) | অধ্যাপক মামুনুর রশীদ |
| উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) | অধ্যাপক আব্দুল আলিম |
| স্বাগত বক্তব্য | অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশীদ আলম (ছাত্র উপদেষ্টা) |
অনুষ্ঠানের শিল্প ও সামাজিক অংশ
নবীনবরণকে প্রাণবন্ত করতে মিলনায়তনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং পরিচিতিমূলক আয়োজন থাকায় নবীনরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। প্রবেশ নতুন জীবনের শুরু হিসেবে দেখা হয়—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে অনুষ্ঠান পরিচালনায় অংশ নেওয়া শিক্ষকরা জানান।
প্রশাসনিক অঙ্গীকার ও পরামর্শ
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সিন্ডিকেট সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তারা নবীনদের উদ্দেশে বিশেষভাবে শিক্ষার প্রতি মনোযোগ, নিয়ম-কানুন মেনে চলা ও গবেষণার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
- ফুল ও শিক্ষা-সামগ্রী দিয়ে নবীনদের বরণ করা হয়।
- নবীনদের জন্য ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধা ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
- শিক্ষা ও গবেষণা প্রসারে এগিয়ে আসার অনুরোধ করা হয় নবীনদের প্রতি।
নতুন শিক্ষার্থীদের সামনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বিশ্ববিদ্যালয় শুরু নতুন অধ্যায়—এমনটাই মনে করে অনেকে। বিদ্যাপীঠের উচ্চপদস্থরা বলছেন, কলেজের পাঠক্রম শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, সময় ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার মান বাড়াতে হবে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের পাঠোদ্ধারেই সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণা ও প্রকাশনায়ও মনোযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠান প্রতি বছরই এক ধরনের পরিচিতি ও অভিব্যক্তির জায়গা হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ আশা করে, নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখানে শৃঙ্খলা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে নিজেদের এক আলাদা পরিচয় গড়ে তুলবে।