নগরীর ঐতিহ্য পুনরায় সজীব করার পরিকল্পনা
রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার নবায়ন ও আধুনিকীকরণ নিয়ে নগরপ্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যৌথ পদক্ষেপ শুরু করেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. শাহজামান খান চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন।
পরিদর্শনে অংশ নেনও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) ড. মো. বজলুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সফিকুর রহমান, রাজশাহী বিভাগের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার অধিকারী, রাসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন। উপস্থিতরা চিড়িয়াখানার বর্তমান অবস্থা দেখে তা কীভাবে আকর্ষণীয়, আধুনিক ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন।
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরবাসী রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন,”
রিটন পরিদর্শনের পরে সাংবাদিকদের জানান যে চিড়িয়াখানায় নতুন পশুপাখি সংযোজন, অবকাঠামোগত সংস্কার ও দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছেন এবং ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রীও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন।
ফিজিবিলিটি স্টাডি ও সমন্বিত পরিকল্পনা
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, তাদের একটি টিম চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শন করেছে এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি করে পরামর্শ দেবে। স্টাডির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে চিড়িয়াখানার কোন অংশগুলো কিভাবে সাজানো হলে তা উন্নত ও আধুনিক হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আধুনিক চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার আদলে কাজ করা হবে।
- নতুন পশুপাখি সংগ্রহ ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি
- ক্যাফেটেরিয়া, টয়লেট ও পথচারী সুবিধা উন্নয়ন
- প্রদর্শনীস্থল ও তথ্যকোণ আধুনিকীকরণ
পরিদর্শনে অংশ নেওয়া উচ্চপদস্থরা জানান যে ফিজিবিলিটি রিপোর্টের পর প্রকল্পের পরিধি ও বাস্তবায়ন সূচি প্রকাশ করা হবে। তারা মনে করান যে আধুনিক চিড়িয়াখানা কেবল প্রাণী প্রদর্শনের স্থান নয়, সেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমও সমানভাবে গুরুত্ব পায়।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা বহু বছর ধরে শহরের সামাজিক-মৌলিক বিনোদন ও শিক্ষামূলক একটা স্থান হিসেবে কার্যকর ছিল। আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে উন্নত করা হলে এটি শহরের ট্যুরিস্ট আকর্ষণ বাড়াতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—যেমন অন্যান্য পাবলিক স্পেস ও বিনোদন কেন্দ্রে ঘটে থাকে।
| উপাদান | আশান্বিত পরিবর্তন |
|---|---|
| পশুপাখি | নতুন সংযোজন ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্য |
| অবকাঠামো | পথ, টয়লেট, কনসেশন উন্নয়ন |
| ব্যবস্থাপনা | আধুনিক পরিচর্যা ও নিরাপত্তা প্রটোকল |
উল্লেখ্য, এ পর্যায়ে পরিকল্পনার বিস্তারিত সময়সীমা ও বাজেট প্রকাশ করা হয়নি; তবে সংশ্লিষ্টরা জানান যে স্টাডির পর তা চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় নাগরিকরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর ঐতিহ্য বহাল থাকবে এবং শহরের বিনোদনকেন্দ্র নতুন গতি পাবে।
চিড়িয়াখানার উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ কার্যক্রমে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে নাগরিক অংশগ্রহণ, প্রাণীর কল্যাণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নেয়া হবে বলে কর্মকর্তা-বরবরা জানান।