জেলা প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শন ও মজুতের বর্তমান চিত্র
রাজশাহী জেলার বিভিন্ন গুদামে ২,৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে—এ তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এসময় বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার মেসার্স মোসলেম মোল্লার গুদাম এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সংসাদিপুর এলাকার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
জিলা প্রশাসন বলছে, চলতি আগস্টে জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং ডিলারদের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের কাছে বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার প্রান্তিক কৃষকদের উপকৃত করতে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দের অনুরোধ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চাহিদা ও সরবরাহের ব্যপক অবস্থা
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, রাজশাহীতে বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ আমন ধান রোপণ কাজ শেষ হওয়ায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া সারের চাহিদা বজায় রয়েছে। প্রশাসন সূত্র বলছে, ডিলাররা আগামীকাল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত সার উত্তোলন করতে পারবেন—এমনভাবে ডিলারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যাতে সরবরাহে বিরতি না ঘটে।
অভিযান, জব্দ ও জরিমানা
ভিজিল্যান্স টিম ও মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন বলছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযানে এ পর্যন্ত ১,২৯৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে এবং অনিয়মের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।
“কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”
জেলা প্রশাসক আরও জানিয়েছেন যে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট ও ভিজিল্যান্স টিমের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে আমন মৌসুমে ফসলের উন্নত ফলন বজায় রাখতে সহায়তা হবে; অপরদিকে যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় বা কালোবাজারি চালু থাকে তাহলে চাষিরা সময়মতো সার পেলো না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রশাসনের উদ্যোগ ও তদারকির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্থানীয় বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
- বর্তমান মজুত ইউরিয়া: ২,৪৬৯ মেট্রিক টন
- সাম্প্রতিক জব্দকৃত সার: ১,২৯৩ বস্তা
- আদায়কৃত জরিমানা: ৩ লাখ টাকা
যে সিদ্ধান্তগুলো নজরে রাখবে খামারিরা
সরবরাহ-সিস্টেম এবং ভিজিল্যান্স কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা থাকলে কৃষকরা নির্দিষ্ট সময়েই সার পেয়ে বসতি টিকিয়ে রাখতে পারবেন। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাকায় ডিলারদের বরাদ্দ ও উত্তোলন প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব হয়। তবে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসন—তিন পক্ষের সতর্কতা ও দায়বদ্ধতা বজায় থাকলেই বাজারে কৃত্রিম সংকটের সুযোগ কম থাকবে।
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| গুদামে থাকা ইউরিয়া | ২,৪৬৯ মেট্রিক টন |
| জব্দকৃত সার | ১,২৯৩ বস্তা |
| জরিমানা | ৩,০০,০০০ টাকা |
প্রতিবেদন অনুসারে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় কৃষক ও বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন—প্রশাসনের তৎপরতা বজায় থাকলে বাজার স্বাভাবিক থাকবে; তবু ভবিষ্যৎকালে অপ্রত্যাশিত চাহিদা পরিবর্তন বা সরবরাহ ব্যাহত হলে পরিস্থিতি দ্রুত কেটে উঠবে কিনা, তা সময়ই বলবে।