রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৯৮,৭১০টি উত্তরপত্র (খাতা) চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ব্যবহারিক ও অন্য সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জসহ মোট আবেদন দাঁড়িয়েছে ১,২২,২২৮টিতে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন এই তথ্য জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)।
পরিসংখ্যান ও প্রধান তফসিল
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এই বছর মোট আট জেলায় পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১,৭৬,৪৪ (এক লাখ সপ্ত্বিশ হাজার চারচল্লিশ)। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১,১২,০৮৬ জন। এর ফলে বোর্ডের মোট পাসের হার হয়েছে ৬৩.৬৭%। পাসকৃতদের মধ্যে ১৬,১১৩ জন পেয়েছেন জিপিএ-৫।
শ্রেণি ও বিষয়ভিত্তিক বিচারের জন্য শিক্ষার্থীরা ফল প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাতা দেখার ও পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারেন; চলতি বছর খাতা চ্যালেঞ্জের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট। সেই সময়সীমায় জমা পড়া আবেদনই উপরের সংখ্যায় পরিণত হয়েছে।
গত কয়েক বছরের তুলনা
রাজশাহী বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সাত বছরে এ বারই সর্বনিম্ন পাসের হার দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে ২০২০ সালে পাসের হার ছিল ৯০.৩৭%, যা থেকে এই বছরের ৬৩.৬৭% এ নেমে আসায় কমেছে প্রায় ২৯.৫% পয়েন্ট। এই হ্রাস শিক্ষা সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
ফলপ্রকাশের পরে ব্যাপক সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক অনুন্নত বা প্রত্যাশিত নম্বর না পাওয়ার কারণে খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন জমা দিয়েছেন বলে বোর্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, ফল সাধারণত তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও কলেজ নির্বাচনে প্রভাব ফেলে; তাই ভুল বা অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়া কঠিন।
- চ্যালেঞ্জকৃত খাতা: 98,710 (বিষয়গত লেখ্য খাতা)
- ব্যবহারিকসহ মোট চ্যালেঞ্জ: 1,22,228
- সফল পরীক্ষার্থী: 1,12,086
বোর্ডের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী ধাপ
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন জানান, খাতা চ্যালেঞ্জের পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পুনরায় উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবে এবং প্রাপ্ত ফলাফল পুনরায় নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় লাগতে পারে এবং বোর্ডের নির্ধারিত সূচি মেনে কাজ করা হবে।
খাতা পুনঃমূল্যায়ন একদিকে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ দূর করা আর অন্যদিকে পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রণালীতে ভুল থাকলে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ। তবে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সংখ্যার উর্ধ্বগতি বোর্ডকে অতিরিক্ত সংস্থান ও সময় ব্যবস্থাপনা করতে বাধ্য করবে।
স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া
রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাবিদ বলছেন, গত বছরগুলোর তুলনায় পাসের হার এত কম হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গভীর আলোচনা দাবি করে। শিক্ষাব্যবস্থা ও বোর্ড পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট পরীক্ষার্থী (আট জেলা) | 1,76,044 |
| উত্তীর্ণ | 1,12,086 |
| জিপিএ-৫ | 16,113 |
| খাতা চ্যালেঞ্জ (লিখ্য) | 98,710 |
| মোট চ্যালেঞ্জ (ব্যবহারিকসহ) | 1,22,228 |
পরামর্শ ও সুপারিশ
বহু অভিভাবক ও শিক্ষক মনে করেন—পঠনপাঠন ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় গুণগত উন্নতি না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিশ্চয়তা ও ভরসাহীনতা বাড়তেই থাকবে। তারা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা ও কোচিং ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এখন যে পরিমাণ খাতা চ্যালেঞ্জ পেয়েছে, সেটি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে বাধ্য। একই সঙ্গে এই ঘটনার প্রতিফলন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরীক্ষার গুণগত মান ও ম্যানেজমেন্ট কিভাবে উন্নত করা যায় সেটাও ভাবার সময় এসেছে।