রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুসারে ভাড়া নির্ধারণের জোর দাবি জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আন্দোলন ও আইনগত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
কী দাবি করা হয়েছে
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি লিখিত বক্তব্যে জানান—রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনে বস্তার নিট ওজন থেকে অতিরিক্ত পাঁচ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী জেলার প্রস্তাবে গড়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া পাঁচ টাকা ২০ পয়সা হিসেবে দেখা গেছে।
“প্রায় দুই বছর ধরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছি। রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটি নানা প্রতিকূলতা ও হিমাগার মালিকদের অসহযোগিতার মধ্যেও প্রায় একটি নিরপেক্ষ সুপারিশমালা দিয়েছে,”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ, সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও আলুচাষিরা।
পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট
বক্তারা বলছেন, হিমাগারে আলু রাখার ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা আছে এবং হিমাগার মালিকদের অনড় অবস্থার কারণে এখন পর্যন্ত যৌক্তিক ভাড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় পর্যায়ে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণে গঠিত কমিটিতে রাজশাহী ও রংপুরের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি—যেগুলো মিলে দেশের মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন করে।
- জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ: বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ টাকা
- অন্যান্য জেলার গড় সুপারিশ: প্রতি কেজি ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা
- চাষি ও ব্যবসায়ীদের অবস্থান: সুপারিশ মেনে না নিলে আন্দোলন ও আইনগত পদক্ষেপ
সম্ভাব্য প্রভাব ও নজরদারি
হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া চূড়ান্ত না হলে চাষী ও ব্যবসায়ীদের উপর তাত্পর্যপূর্ণ আর্থিক বোঝা পড়তে পারে, বিশেষত যদি হিমাগার মালিকরা উচ্চ ভাড়া ধার্য করেন। জেলা স্তরের সুপারিশ কার্যকর না হলে কৃষকরা শ্রেষ্ঠ বিকল্প হিসেবে প্রতিবাদ বা আইনি পথে যাতায়াত শুরু করতে পারেন—যার ফলে ভোক্তা ও সার্বিক আলু সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
| বিষয় | জরুরী তথ্য |
|---|---|
| রাজশাহী–রংপুরের উৎপাদন অনুপাত | মিলে দেশের আলু উৎপাদনের প্রায় ৭০% |
| জেলা সুপারিশ কমিটির ভাড়া সুপারিশ | বস্তা প্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি বাদে প্রতি কেজি ৫ টাকা |
| অন্যান্য জেলার গড় পরামর্শ | প্রতি কেজি গড় ৫ টাকা ২০ পয়সা |
সংবাদ সম্মেলনে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, আগামীকাল (২৫ আগস্ট) নির্ধারিত জাতীয় বৈঠকে গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক ভাড়া না হলে তারা জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভাড়া প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বক্তারা জোর দিয়েছেন যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় হিমাগার মালিকদের কাঁধে পড়বে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো—ভাড়া নির্ধারণের সুযোগটি চূড়ান্ত না হলে বেলার বাজারে আলুর দাম ওঠানামা ও স্থানীয় কৃষকের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। রাজশাহী অঞ্চলের ব্যপক আলু উৎপাদন বিবেচনায় নিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে সম্মিলিতভাবে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।
অবশ্য সিদ্ধান্ত কেমন হবে এবং জাতীয় কমিটি আগামী বৈঠকে কীভাবে রাজশাহী জেলার সুপারিশকে বিবেচনায় নেবে—সেখানে নিয়োগকৃত প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।