সিনেটে অনিশ্চয়তা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব বিঘ্নিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জন্য দীর্ঘ দিন ধরেই অপেক্ষিত একটি সিদ্ধান্ত—সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু—তবে তা এখনও বাস্তবে আসেনি। ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও সিনেট শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে নির্বাচিত হন পাঁচজন শিক্ষার্থী। কিন্তু নির্বাচনের প্রায় প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেননি এবং সিনেটের কোনো অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়নি।
নির্বাচন ও প্রশাসনিক বন্ধস্রবার
৩৫ বছর পর পুনরায় শিক্ষার্থী প্রতিনিধির নির্বাচনের মাধ্যমে সিনেটে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হলে ক্যাম্পাসে প্রত্যাশা দেখা দেয়। সেই নির্বাচনে পাঁচজন পদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন—সালাহউদ্দীন আম্মার, মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ফাহিম রেজা, আকিল বিন তালেব ও সালমান সাব্বির। নির্বাচন শেষে শপথ ও সিনেট অধিবেশন দ্রুত হবে—এমন আশায় ছিলেন শিক্ষার্থীরা।
তবে নির্বাচনের প্রায় এক বছর পেরোতেই শপথ গ্রহণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে সিনেটের কোনো অধিবেশনও ২০১৬ সালের ১৯ মে পর থেকে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে।
- নির্বাচন তারিখ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫
- নির্বাচিত প্রতিনিধিরা: সালাহউদ্দীন আম্মার, মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ফাহিম রেজা, আকিল বিন তালেব, সালমান সাব্বির
- সিনেটের শেষ সভা: ১৯ মে ২০১৬ (প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে)
“দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও প্রায় ১০ মাস ধরে তারা শপথ নিতে পারেননি।”
নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রকৃত প্রভাব
সিনেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম; এখানে বাজেট ও নীতিগত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়। প্রতিনিধিত্ব না থাকলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে পারেন না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছাত্রকল্যাণজনিত বিষয়গুলো প্রভাবিত হতে পারে—বিশেষত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসিক সুবিধা, একাডেমিক নীতিসহ বিভিন্ন অনুষদের কার্যক্রমে।
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও প্রভাব
বহু শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাস পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন করছেন—কেন শপথ ও সিনেট অধিবেশন আয়োজিত হয়নি, প্রশাসন কি এখনও কোনো সময়সূচি সুপারিশ করেছে কি না, এবং দীর্ঘদিন ধরে সিনেট অধিবেশন না থাকায় কর্তৃপক্ষ কীভাবে নীতিনির্ধারণ করছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর সরাসরি সংশয় তৈরি হচ্ছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নির্বাচন তারিখ | ১৮ অক্টোবর ২০২৫ |
| নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা | ৫ জন |
| সিনেটের সর্বশেষ অনুষ্ঠিত অধিবেশন | ১৯ মে ২০১৬ |
এ ঘটনায় রাজশাহীর শিক্ষার্থী সংগঠন, শিক্ষাজীবী ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পরিষ্কার সময়সূচি ঘোষণা করে প্রতিনিধিদের শপথ কার্যকর করার আহ্বান জানাতে পারেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যধারা পুনরায় শুরু না করে, তবে এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক মাধ্যম ক্ষুন্ন হবে—যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এ মুহূর্তে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে শপথ সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। পরিস্থিতি বদলালে তদন্তপূর্বক বা প্রশাসনিক উদ্যোগ সম্পর্কে পরবর্তী রিপোর্টে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হবে।