রাজশাহীর আড়ানী রেলস্টেশন এলাকার রেললাইনের পাত ভাঙা-র ফলে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর ট্রেন যোগাযোগ প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করা হলে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
ঘটনার সময় ও প্রভাব
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ডিভিশনাল পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সোয়া ছয়টার দিকে। আড়ানী রেলস্টেশন এলাকা থেকে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে অন্তত তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন আটকা পড়ে। ওই ট্রেনগুলোর মধ্যে ছিল ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস এবং খুলনাগামী মহানদা এক্সপ্রেস। এছাড়া অন্যান্য স্টেশনেও তিনটি ট্রেন আটকে পড়েছিল।
- ঘটনার ধরন: রেললাইনের পাত ভাঙা
- সময়: সকাল সোয়া ৬টার দিকে সমস্যা শনাক্ত
- সংকটকাল: প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ
- মেরামত সমাপ্তি: সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
“আড়ানী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেললাইনের পাত ভেঙে যাওয়ায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেসসহ ছয়টা ট্রেন আটকা পড়ে। রেললাইন মেরামত করার পর সেসব ট্রেন আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে।”
এই বিবৃতিটি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ হোসেন-এর। তিনি আরও বলেছেন, রেললাইনে পাত কখন ও কীভাবে ভেঙেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাত্রীর দুর্ভোগ ও নিরাপত্তা বিবেচনা
ঘটনার ফলে নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে না পারায় হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রী ও ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্রুটিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছিল। মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখাই জরুরি ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
| ট্রেন | গন্তব্য / মন্তব্য |
|---|---|
| বনলতা এক্সপ্রেস | ঢাকাগামী; রাজশাহী স্টেশনে আটকা |
| সিল্কসিটি এক্সপ্রেস | ঢাকাগামী; রাজশাহী স্টেশনে আটকা |
| মহানন্দা এক্সপ্রেস | খুলনাগামী; রাজশাহী স্টেশনে আটকা |
| অন্যান্য তিনটি ট্রেন | রাজশাহী ও নিকটস্থ স্টেশনে আটকা; পরে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে |
রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেরামত শুরু করলে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সম্পূর্ণ তদন্ত করে দেখা হবে পাত ভাঙার সঠিক কারণ কী ছিল—চোখের পলকে ভেঙে যাওয়া বনাম দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতি বা পরিচর্যার অভাব ইত্যাদি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রী সংগঠনগুলোর জন্য এ ধরনের বিঘ্ন দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে: সময়মতো পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধীরগতির হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বাড়ে। রাজশাহীর সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগের এই ধরণের ক্ষণিকেরও সত্ত্বা বিঘ্ন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত রেলরক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেয়ার পরামর্শকে অব্যাহত রাখে।
এ উপলক্ষে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বলেছে, তদন্ত শেষে যদি লাইন বিন্যাস বা ইকুইপমেন্টে কোনো স্থায়ী সমস্যা ধরা পড়ে, তা মেরামত ও প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে জরুরি মেরামত সম্পন্ন হওয়ায় রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।