রংপুর নগরীর দাসপাড়ায় (মাছুয়াপাড়া) একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস-এর ডোপ টেস্টে কোনো ধরনের মাদকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সোমবার দুপুরে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী নিশ্চিত করেছেন।
নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে আসামিদের কারাগারের বাইরে আনা হয়নি; বরং রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সেখানে থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা সংগ্রহের সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন। পরে সেই নমুনাগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
"রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি টেকনিক্যাল টিমের সহযোগিতায় রোববার জেলগেট থেকে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় এমফিটামিনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।"
আদালত ও রিমান্ড সংক্রান্ত পরিস্থিতি
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী আসামিদের জেলগেটে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত দুদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২য় (পুলিশ ফাইল) আদালত শোনানির পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম প্রত্যেক আসামিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দুই দিন করে তিন ঘণ্টা জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।
- তারিখ ও সময়: রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে জেলগেটে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
- পরীক্ষার ফল: এমফিটামিনসহ কোনো মাদকগত উপাদান সনাক্ত হয়নি।
- আদালতি নির্দেশ: প্রতিটি আসামিকে যেকোনো দুই দিন করে তিন ঘণ্টা জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে।
গবেষণার প্রসঙ্গ ও মামলার বর্তমান অবস্থা
রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে—একই পরিবারের চারজন—২২ আগস্ট রাতের ঘটনার পর তাদের বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অভিযুক্তরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে মামলার ব্যঞ্জনায় বলা হয়েছে। বর্তমানে গোয়েন্দা বিভাগের তদন্ত চলছে।
| ঘটনার ধাপ | তারিখ/সময় |
|---|---|
| ঘটনা: চারজনের মরদেহ উদ্ধার | ২২ আগস্ট (রাত) |
| আসামিদের গ্রেপ্তার | ঘটনার পর থেকে (তথ্যসূত্রে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই) |
| কারাগেটে নমুনা সংগ্রহ | ৩০ আগস্ট দুপুর সোয়া ১টা |
| ডোপ টেস্টের ফল ঘোষণা | ৩১ আগস্ট (পুলিশের বিজ্ঞপ্তি) |
এসব তথ্য রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কারাগারের ভেতরেই নমুনা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
রংপুরবাসীর জন্য প্রাসঙ্গিকতা
এই ঘটনায় আবেগপ্রবণ এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে—একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের সংবাদের পর স্থানীয় জনজীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ায় তদন্তের ফোকাস এখনও হত্যার কারণ ও ঘটনার বাস্তব সংগঠন নির্ধারণের দিকেই রয়েছে। পুলিশের অনুসন্ধান এমনিতেই ঘটনার কারণ ও পেছনের মোটিভ খুঁজে বের করতে কড়াকড়ি করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ পরবর্তী পরীক্ষার ফল ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী আপডেট দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।