রংপুর সীমান্ত এলাকায় রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) শনিবার রাতে ও ভোরে পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য ও কারেন্ট জাল উদ্ধার এবং ভারত থেকে পাচার করা ছয়টি গরু আটক করেছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রকাশ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযানের বিবরণ
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টায় রংপুর ব্যাটালিয়ন-এর গোমনাতী বিওপির একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৭৮৯/৯-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উত্তর গোমনাতী এলাকায় অভিযান চালায়। বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে মোট ১০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা ও ৪০ ফুট কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, ২১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে পানবাড়ি বিওপির একটি টহল দল এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে সীমান্ত এলাকায় কেউ গরু নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে। সীমান্ত পিলার ডিএএমপি ৪/৯-এস হতে প্রায় ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্বাধীন বাংলা চত্বর এলাকায় অবস্থান করে টহল দল। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছানো ব্যক্তিরা ভারত থেকে আনা ছয়টি গরু ফেলেই পালিয়ে গেলে বিজিবি সদস্যরা গরুগুলো আটক করে পানবাড়ি বিওপিতে নিয়ে যায়।
আটক ও উদ্ধারকৃত মালামালের তালিকা
- গাঁজা: ১০০ গ্রাম (ভারতীয় উৎস)
- কারেন্ট জাল: ৪০ ফুট
- আটক গরু: ৬টি (ভারতীয়)
| বস্তু | পরিমাণ | অবস্থান |
|---|---|---|
| গাঁজা | ১০০ গ্রাম | উত্তর গোমনাতী (পিলার ৭৮৯/৯-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ) |
| কারেন্ট জাল | ৪০ ফুট | উত্তর গোমনাতী |
| গরু | ৬টি | স্বাধীন বাংলা চত্বর এলাকা (পিলার ডিএএমপি ৪/৯-এস থেকে প্রায় ২৫০ গজ) |
মানুষ ও সম্পদের ক্ষতি-প্রতিরোধের প্রেক্ষাপট
বিজিবি জানায়, আটক ছয়টি ভারতীয় গরুর আনুমানিক মূল্য রাখা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই সূত্র বলছে, দুই অভিযানে উদ্ধার ও আটক করা মালামালের মোট সিজারের মূল্যও মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এ ধরনের অভিযান চোরাচালান ও অবৈধ পারাপারের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার ও অবৈধভাবে জাল-মাল বহনের ঘটনা নতুন নয়; বরং উৎস বা পাসওয়ার্ডহীন অবৈধ রুট ব্যবহার করে জীবজন্তু ও মাদকদ্রব্য পারপারে নিয়মিত রফতানি-প্রবাহ থাকে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন। বিজিবি এসব ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্ত টহল জোরদার করেছে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানের সংখ্যা বাড়িয়েছে।
অপারেশনাল দিক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রংপুর ব্যাটালিয়নের টহল দলগুলো সীমান্ত পিলার থেকে অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে সন্দেহভাজন লোকদের গতি-প্রকৃতি নজরে রাখে। অভিযানের সময় বেশ কিছু ক্ষেত্রে চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়; এরপর তল্লাশি চালিয়ে জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানগুলোর ফলে ধরা পড়া মালামাল ও আটককৃত গরু পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো আটক মালামালের আইনি হস্তান্তর, গরুগুলোর পরিচয় নির্ণয় ও তাদের স্বখাত নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা করা যায়।
রংপুর সীমান্তে গত কয়েক বছরে চোরাচালান ও মাদক-বিষয়ক অপরাধ ঠেকাতে বিভিন্ন সতর্কতা ও অভিযান পরিচালিত হয়েছে; তবে সেগুলোতে অস্থায়ী সাফল্যের পরও জোরদার মনিটরিং ও দ্রুততর আইনগত ব্যবস্থা ছাড়া পুনরায় প্রবণতা বাড়তে পারে—এজন্য ক্রমাগত টহল ও জনসচেতনতাও জরুরি।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করলেও, অভিযানে কাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বা তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে—এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি।