বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই বছর বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মালিকপক্ষ আজ (শুক্রবার) বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধি বৈঠকের পর সবাই মিলে বিসিবির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর মডেল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজির আশঙ্কা ও যুক্তি
রংপুর রাইডার্স সিইও ইসতিয়াক সাদেক বৈঠকে জানিয়েছেন যে বাজারের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে এবং তড়িঘড়ি করে আয়োজন করলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিই হবে। তিনি বলেন:
"বাজারের পরিস্থিতি দিনকে দিন এত খারাপ হচ্ছে যে এটা আরও বেশি খারাপই হবে। সুতরাং শুধু নামমাত্র বিপিএল করে প্রতিশ্রুতি দিলাম ৩০ লাখ টাকা দেবো কিন্তু খেলোয়াড়কে আমি শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা দিচ্ছি না, ফোন ধরছি না, হারিয়ে যাচ্ছি- এর চেয়ে বরং একটু সময় নিয়ে ভালো কোনো একটা মডেলে করাটাই ভালো।"
ইসতিয়াক সাদেক আরও নির্দেশ করেছেন যে, গত জানুয়ারি থেকে প্রায় সাত থেকে আট মাস পার হলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কিছু স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দিতে পারেনি কারণ তাদের সঙ্গে যে পৃষ্ঠপোষক চুক্তি হয়েছিল অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থপ্রদান হয়নি।
ঢাকা ও রাজশাহীর প্রতিক্রিয়া
ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদ বলেন, বিসিবি নতুন মডেল তৈরির জন্য চার থেকে পাঁচ মাস সময় দেবে। তিনি বলেন:
"বিসিবি বলেছে বিপিএলের নতুন মডেল তৈরি করে কমপক্ষে চার পাঁচ মাস আমাদের সময় দেওয়া হবে। যাতে করে আমরা তাদের ক্রাইটেরিয়া ফুল ফিল করতে পারি। শেষ দুই বছরে যেভাবে বিপিএল হয়েছে এবারও সেভাবে হলে আমরা থাকবো না।"
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সিইও মোকছেদুল কামাল বাবু বলেন, তারা মাঠে বিপিএল চাইছেন এবং লিগের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ; তবে পূর্বের সমস্যা সমাধান না হলে পুরোনোভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, একটি এমন মডেল দরকার যাতে বিসিবি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও খেলোয়াড় সকলেই লাভবান হন।
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ — রংপুরের প্রভাব
রংপুর রাইডার্স রংপুরবাসীর জন্য স্থানীয় ক্রিকেটের প্রধান মুখ। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় খেলোয়াড়রা বিপিএলকে আত্মপ্রকাশের গঞ্চনা হিসেবে দেখে আসছিল। এবারের সিদ্ধান্ত এবং ঘটে যাওয়া আর্থিক অনিশ্চয়তা স্থানীয় খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্লাব পর্যায়ের কর্মীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
- স্থানীয় খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও চুক্তি স্থিতিশীল না থাকলে তাদের আয় অনিশ্চিত হবে।
- ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যদি স্পন্সরিং সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে ওঠে, তাতে টুর্নামেন্টের গুণগতমান ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
- রংপুরে ক্রিকেট উন্নয়নমূলক প্রোগ্রামে আর্থিক সাপোর্ট সংকুচিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
| ফ্র্যাঞ্চাইজি | প্রতিনিধি | মতামত |
|---|---|---|
| রংপুর রাইডার্স | ইসতিয়াক সাদেক (সিইও) | নতুন মডেল ছাড়া তড়িঘড়ি করা ঠিক নয় |
| ঢাকা ক্যাপিটালস | আতিক ফাহাদ (সিইও) | বিসিবির সময় চাওয়ার প্রস্তাবে রাজি |
| রাজশাহী ওয়ারিয়র্স | মোকছেদুল কামাল বাবু (সিইও) | ধারাবাহিকতা চাই, সমস্যা সমাধান প্রয়োজন |
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা সম্মত হয়েছিলেন যে বিকল্প মডেল তৈরির সময় দিলে তারা তা বিবেচনা করবেন এবং মানবোধ-নির্ভর, আর্থিকভাবে টেকসই ও অংশগ্রহণকারী সকলের স্বার্থ সংরক্ষণের মতো মডেল গঠন করা দরকার। বিসিবি প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালের সঙ্গে আগামীকাল ক্রিকেটারদেরও বৈঠক রয়েছে, যেখানে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রংপুরের ক্রিকেটভিত্তিক উন্নয়ন, স্থানীয় খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক সুস্থিতি—এসব বিষয় এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত থাকায় রংপুরবাসীর নজর এখন বিসিবির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নতুন মডেল প্রস্তুতির দিকে।