আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু, বালিকাদের জন্য স্কেটিং ক্যাম্পে উপস্থিতি
নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর আড়াই বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হলো রংপুর বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে স্কুল পর্যায়ের বালিকা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বিভাগীয় স্কেটিং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের মাধ্যমে কমপ্লেক্সটির ব্যবহার শুরু করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের কমিশনার শহিদুল ইসলাম, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আব্দুল মোত্তালেব সরকার। বক্তব্য দেন মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন রংপুর বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিভাগীয় মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সেলওরা বেগম। জেলা ক্রীড়া অফিসার মাসুদ আলমসহ প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
“অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এরপর নানাভাবে উদ্যোগ নিয়ে শুরু করা হলো। আশা করি আর কখনো এটি অর্থের কারণে বন্ধ হবে না।” — শহিদুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার
পেছনের সূত্র ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
রংপুর বিভাগের আট জেলার নারীদের খেলাধুলার প্রসার, উন্নয়ন ও বিকাশে ২০১৭ সালে ১০ একর জমির ওপর এই কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেতিবাচক অংশগ্রহণে। ২০২৩ সালের ২ আগস্ট কমপ্লেক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর গত আড়াই বছর এখানে কোনোরকম নিয়মিত খেলাধুলা বা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়নি—এমনটাই জানানো হয় স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে।
কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকায় এর অবস্থা নিয়ে গত বছর বিভিন্ন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল; একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘৩৮ কোটি টাকার ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নেই জনবল, গেটে শুকানো হয় ধান’। অনেকে হতাশও ছিলেন যে বড় মাপের বিনিয়োগ রেখে সুবিধাটি খালি পড়ে আছে।
প্রথম ধাপ: স্কেটিং ও রোলার প্রশিক্ষণ
উদ্বোধনের পর তিন দিনব্যাপী স্কেটিং ক্যাম্প ছাড়াও প্ররেসলিং এবং রোলারসহ বিভিন্ন ধরনের স্কেটিং ইভেন্টে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে বালিকারা। অংশগ্রহণকারী ছাত্রীরা জানান, দীর্ঘদিন পরে কমপ্লেক্সে এই ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে তারা খুশি। প্রশাসনও আশা করেছে, নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা হলে রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে মেয়েদের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ বাড়বে।
- উপস্থিতি ও কর্তৃপক্ষ: বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, ডিআইজি ও জেলা ক্রীড়া অফিসারসহ স্থানীয় কর্মকর্তারা।
- প্রশিক্ষণের ধরন: স্কেটিং, রোলার ও প্ররেসলিং—স্কুল পর্যায়ের বালিকাদের জন্য তিন দিনব্যাপী ক্যাম্প।
- ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভাগীয় ক্রীড়া উন্নয়ন এবং নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়ন।
চ্যালেঞ্জ ও স্থানীয় দায়িত্ব
উদ্বোধনী ভাষণে বিভাগীয় কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন যে, আর্থিক সংকটের কারণে কার্যক্রম স্থবির হয়নি; এখন থেকে সরকারি ও বেসরকারি অংশগ্রহণ নিয়ে কমপ্লেক্স চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। প্রশাসনের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পেলে ক্রীড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো কার্যকর করতে সহায়তা করবে—বিশেষ করে নারী ক্রীড়াবিদ তৈরির ক্ষেত্রে।
স্থানীয় পর্যায়ে এখন যা প্রয়োজন তা হলো:
| পাল্লা | অবস্থা |
|---|---|
| জমি ও নির্মাণ | ২০১৭ সালে ১০ একর জমিতে নির্মাণ, ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন |
| ব্যবহার | উদ্বোধনের পর আড়াই বছর কর্মহীন ছিল; ১৩ আগস্ট থেকে প্রশিক্ষণ শুরু |
কমপ্লেক্সটি এখন যে মাত্রায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে, তা স্থানীয়দের আশাবাদী করেছে। তবে টেকসই কার্যক্রমের জন্য প্রশিক্ষক, স্থানীয় সমন্বয়, নিয়মিত বাজেট ও সম্প্রদায় সমর্থন প্রয়োজন হবে—না হলে আগের মতো পুনরায় স্থবির হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। রংপুরবাসীর দৃষ্টি এখন সেই ধারাবাহিকতায় কাজ করা ও মেয়েদের ক্রীড়া অংশগ্রহণ বাড়ানো কি না—তা দেখার।