রংপুরে আড়াই বছর ধরে বন্ধ থাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের কার্যক্রম অবশেষে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিন দিনব্যাপী স্কেটিং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা ঘোষণা করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও বক্তব্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো: আব্দুল মোত্তালেব সরকার। উপস্থিত ছিলেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলম, জেলা ক্রীড়া অফিসার মাসুদ আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
“অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এরপর নানাভাবে উদ্যোগ নিয়ে শুরু করা হলো। আশা করি আর এটি অর্থের কারণে বন্ধ হবে না,”
প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও অংশগ্রহণ
প্রথম পর্যায়ে পরিচালিত স্কেটিং প্রশিক্ষণে স্কুল পর্যায়ের বালিকা শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে শিক্ষকরা প্রাথমিক কৌশল, সুরক্ষা ও রোলার ও প্রোরেসলিংয়ের মৌলিক দিকগুলো শেখান। প্রশিক্ষণের শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাঠে বিভিন্ন প্র্যাকটিস প্রর্দশনও করে। অনেকে জানিয়েছেন, এমন সুযোগ পেয়ে তারা উৎসাহিত এবং ভবিষ্যতে ক্রীড়া জীবনে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন।
প্রকল্পের পটভূমি ও অর্থায়ন
রংপুরে এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কমপ্লেক্সটি ২০২৩ সালে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয় এবং এটি তৈরি করা হয়েছে ১০ একর জমির ওপর। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরেও আর্থিক কারণে এবং নানা সমস্যা নিয়ে প্রায় আড়াই বছর পেছিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
| বিষয় | প্রতিষ্ঠান তথ্য |
|---|---|
| নির্মাণকারী | জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ |
| খরচ | ৩৮ কোটি টাকা |
| জমির আয়তন | ১০ একর |
| নির্মাণ শেষ | ২০২৩ |
কেন দেরি হলো—দফায় দফায় বাধা
কমপ্লেক্স নির্মাণ শেষ হলেও কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার অর্থনীতি ও পরিচালনার সীমাবদ্ধতাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় নানা উদ্যোগ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাবনা
মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি রংপুর বিভাগের মেয়েদের ক্রীড়া জগতে প্রবেশের সুযোগ বাড়াবে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের মেয়েরা বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রস্তুত হতে পারবে। স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, নিরাপদ পরিবেশে প্রশিক্ষণ ও সুবিধা থাকলে পরিবারের অনেক মেয়েই ক্রীড়ার সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত হবে।
- শিশুদের স্বাস্থ্য ও শারীরিকতার উন্নতি: নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় সহায়তা করবে।
- শিক্ষা ও নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধি: ক্রীড়া ও পড়াশুনোর সমন্বয় শিশুর সার্বিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
- আঞ্চলিক ক্রীড়ায় সাফল্যের সম্ভাবনা: সুস্থ ও প্রশিক্ষিত প্রতিযোগীরা বিভাগকে এগিয়ে নিতে পারে।
অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারীর মন্তব্য
ক্যাম্পে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, সন্তানকে নিরাপদ ও গুনগত মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণmilার মাধ্যমে খেলায় ভুয়সী আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। কমপ্লেক্স চালু হওয়ায় এলাকার মেয়েদের জন্য এটি বড় আশার সঞ্চার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এখন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ীভাবে কমপ্লেক্সটি সচল রাখার জন্য অর্থ ও মানবসম্পদ কিভাবে নিশ্চিত করা হবে। বিভাগীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আর্থিক সহায়তা ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার চেষ্টা করা হবে।
রংপুরবাসীর দিক থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও বাস্তবে কীভাবে এটি মেয়েদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরি করবে—এটাই এখন দেখার বিষয়। স্থানীয় প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে যদি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও তহবিল নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই কমপ্লেক্সটি আঞ্চলিক পর্যায়ে মেয়েদের ক্রীড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।