রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় মেলার নামে লটারি, হাউজি ও অশ্লীল নৃত্য চালু থাকায় তা বন্ধের দাবিতে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বদরগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে আলেম-ওলামা, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ছাত্রসমাজ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ-প্রশাসন ও সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান
সমাবেশে বক্তারা জানান, খোলাহাটি-হাসিনা নগরের বারুনীর বাজার এলাকায় প্রতিবছর এমন একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তারা অভিযোগ করেন যে, মেলার আড়ালে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রদর্শনীর নাম ধরে অবৈধ লটারি, জুয়ার আয়োজন ও অশ্লীল নৃত্য চলে। গতবছরও একই স্থানে লটারি বিক্রির মাধ্যমে লোকজনকে ভুলিয়ে বিপুল অর্থ তোলা হয়েছে বলে উপস্থিতরা দাবি করেন।
- স্থানীয় নেতৃত্ব ও আলেম সমাজ বলছেন, মেলা কর্তৃপক্ষ রাত ৮টার পরও দোকানপাট চালু রাখছে—যা সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থী।
- বক্তারা উল্লেখ করেন, লটারি ও জুয়া নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।
- জানানো হয়েছে, পূর্বে (১১ জুলাই) একই বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগও পাঠিয়েছে।
কাদের বক্তব্য ছিল
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ছাত্রনেতা জুলাই যোদ্ধা রেজওয়ান। তিনি তাঁর বক্তব্যে সতর্ক করে বলেন—
“খুব শিগগিরই মেলায় লটারির নামে এই জুয়া বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন অবৈধ লটারি ও অশ্লীল নৃত্য চলতে পারে না। এসব বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মঈনউদ্দীন তাওহীদী বলেন, মেলার আড়ালে চলমান এসব কর্মকাণ্ড বদরগঞ্জবাসী মেনে নিতে পারে না। তিনি আরও বলেন যে, সরকার রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে; কিন্তু মেলা কর্তৃপক্ষ তা মানছে না—যা নিয়ে আলেম সমাজের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
জামিয়াতুর রশিদ আল আজহা মাদরাসার মোহতামিম শফিকুল ইসলাম সাঈফীর কথায়, আগামী তিন দিনের মধ্যে লটারি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে। তিনি সমাবেশে প্রশাসন ও সংসদ সদস্য যদি আলেম সমাজের দাবি পালনের পক্ষে না থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক প্রভাব
সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি ছিল—প্রশাসনের কর্মীরা বা পুলিশ কর্তারা কখনও কখনও লটারির বাক্স ধরেও পরে ছেড়ে দেন; এই দাবি সমাবেশে উচ্চারণ করা হয়। এই ধরনের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন তোলে।
| প্রধান দাবি | দায়ী পক্ষ |
|---|---|
| মেলায় লটারি ও হাউজি বন্ধ করা | মেলা পরিচালনা/স্থানীয় প্রশাসন |
| রাত ৮টার নির্দেশনা মেনে চলা | মেলা কর্তৃপক্ষ/বিক্রেতা |
| অশ্লীল নৃত্য বাজেয়াপ্ত ও প্রতিরোধ | স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ |
উল্লেখ্য, একই বিষয় নিয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ১১ জুলাই থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছিল, যেখানে বলা হয় মেলার আড়ালে অশ্লীল নৃত্য ও মাদকবিক্রয়ও দেখা যায় এবং এগুলো জননিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।
বর্তমানে স্থানীয়রা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের কাছে দাবি রাখছেন—যদি দ্রুত তদন্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আলেম সমাজ ও স্থানীয় জনতা কঠোর আন্দোলনে নামবেন। স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কবে ও কী পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত কেউ সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেননি।
বদরগঞ্জবাসীর জন্য মেলার নিরাপদ ও নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা একটি স্থানীয় তত্পরতার বিষয়। যে কর্তৃপক্ষ মেলা পরিচালনা করছে বা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থা—তাদের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমই নির্ধারণ করবে পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং সম্প্রদায়ের উদ্বেগ কবে নিস্পত্তি হবে।