রংপুরে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের আহ্বানে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘স্তব্ধ রংপুর’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরের বিভিন্ন সড়ক পয়েন্টে অর্ধেক ঘণ্টার স্থব্ধ কর্মসূচি ও পরে শাপলা চত্বর ও জাহাজ কোম্পানি মোড়ের দুটি সমাবেশে অংশ নেন সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ ও দাবি
ফোরাম কর্মসূচি থেকে একযোগে মনে করিয়ে দেয়া হয় যে, তারা প্রিপেইড মিটার বাতিল এবং পূর্বে ব্যবহার করা হতো এমন ডিজিটাল পোস্টপেইড মিটার পুনঃস্থাপন চাইছে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনমতের বিরুদ্ধে নেসকো যে কাজে নিয়োজিত তা গ্রাহকহিতবিরোধী। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন যে, মিটার বদলের পর তাদের বিল দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যদিও বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়েনি।
সমাবেশ ও বক্তব্য
শাপলা চত্বরের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম রংপুর জেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব আহসানুল আরেফিন তিতু। বক্তৃতায় উপদেষ্টা মির্জা বাবর বাবুল, আবু ছালেক, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সোহেল ও অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। বয়ান দেন কিছু ভুক্তভোগী গ্রাহকও—কেয়া বেগম, ময়না আক্তার, হাসিবুর রহমান ও সোলায়মান আলী।
জাহাজ কোম্পানি মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন বাবলু। সেখানে বক্তব্য রাখেন বাসদ ও সিপিবি রংপুরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য নেতারা। সমাবেশে সংগঠনের নেতা-মন্ডলী এবং সাধারণ জনগণ এককথায় দাবি জানান—প্রিপেইড মিটার জনগণের স্বার্থে নয়।
পথে বাধা ও জনদুর্ভোগ
কর্মসূচির সময় শাপলা চত্বর থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত রাস্তা কিছুক্ষণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্তব্ধ হয়ে যায়; যান চলাচল বন্ধ হয় এবং পথচারীরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে অবস্থান নেন। দোকান-ব্যবসায়ীরা দোকান ছেড়ে বিক্ষোভে যোগ দেন। ফোরাম জানায়, এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল জনমত কাতার আকারে নেসকো ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
“আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, জনগণ প্রিপেইড মিটার চায় না,”
এমন বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। সদস্য সচিব আহসানুল আরেফিন তিতু সমাবেশে বলেন, নেসকো জনমত উপেক্ষা করে প্রতারণামূলকভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে।
নির্দিষ্ট অভিযোগের কাঁটা- ছুরি
সমাবেশে বিশেষ করে কয়েকটি আর্থিক অভিযোগ উচ্চারিত হয়, যেগুলো গ্রাহকদের অসন্তোষ বাড়িয়েছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য—রিচার্জের সময় একবারে নির্দিষ্ট টাকার বাইরে অতিরিক্ত চার্জ কাটা, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ হিসেবে একসঙ্গে ২০০-৩০০ টাকা কাটা হচ্ছে, যা গ্রাহকরা অন্যায় বলে মনে করেন। উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন বাবলু এই অনুষ্টানের বিরুদ্ধেই সরাসরি আপত্তি তুলেন।
- কর্মসূচির সময়: সকাল ১১:৩০ — দুপুর ১২:০০ (আশ্রিত পয়েন্টে স্তব্ধ রাখা)
- প্রধান স্থান: শাপলা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়
- প্রধান দাবি: প্রিপেইড মিটার বাতিল ও ডিজিটাল পোস্টপেইড মিটার পুনঃস্থাপন
| বিষয় | সংক্ষিপ্ত তথ্য |
|---|---|
| আয়োজক | বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম, রংপুর জেলা |
| সময় | ২০ আগস্ট, সকাল ১১:৩০ — দুপুর ১২:০০ |
| প্রধান দাবি | প্রিপেইড মিটার বাতিল, পোস্টপেইড মিটার পুনঃস্থাপন |
ফোরাম কর্মসূচি থেকে যে দাবি উঠে এসেছে তা নেসকো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে বিবেচনা করবেন—এটাই এখন ভোগান্তাগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছে প্রধান প্রশ্ন। রংপুর নগরবাসী ও ব্যবসায়ীরা যদি মনে করেন মিটার বদলের ফলে তাদের উপর অনিয়ম ও অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে, তবে পরবর্তী দিনগুলোতে এ ইস্যু স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নজর কাড়বে বলে অনেকে মনে করছেন।
স্থানীয় প্রশাসন বা নেসকোর কোনো প্রতিক্রিয়া কর্মসূচির সময় সংবাদে পাওয়া যায়নি। বাসিন্দারা বলছেন, সমস্যা সমাধানে দ্রুত তালবদ্ধ ও স্বচ্ছ তদন্ত দরকার যাতে সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগের ন্যায্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।