অপরাধ রংপুর রংপুর (32)

রংপুরে চার হত্যাঃ অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের বাবা-বড় ভাই ডিবি হেফাজতে

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

রংপুরে চার হত্যাঃ অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের বাবা-বড় ভাই ডিবি হেফাজতে
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রীসহ দুই সন্তানের হত্যার ঘটনায় আরও দুইজনকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেলে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে অভিযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস-এর বাবা বিনয় (বিনয় চন্দ্র) দাস ও বড় ছেলে পার্থ দাস-কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের ব্যাখ্যা ও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্য

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কয়েক দিন ধরেই ওই দুইজনকে ডিবি কার্যালয়ে আসতে বলা হচ্ছিল। শনিবার বিকেলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

“তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। বাড়ির সঙ্গে বাড়ি, তাঁর ছেলে ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছে। আমরা তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ করব, তারপর সিদ্ধান্ত।”

মামলার সংক্ষিপ্ত পরিস্থিতি

ঘটনাস্থল থেকে গত ২২ আগস্ট সন্ধ্যার পর রাতভোজে আবিষ্কার করা হয়েছিল গণপতি চক্রবর্তীর (৬০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছেলে প্রীয়ম (১২) এর মরদেহ। বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানাে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই ঘটনায় পর দিন ভোরে স্থানীয় পুলিশ দুই জনকে গ্রেপ্তার করে—মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সাংবাদিকদের অভিযোগ

ঘটনাস্থলে গেলে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া ও স্থানীয়দের আচরণ নিয়ে উত্তেজনা দেখা গেছে। রংপুর জেলা সংবাদকর্মী সেলিম সরকার অভিযোগ করেছেন যে, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি, বিশেষত পার্থ দাস, তাঁর মোটরসাইকেল আটকে চাবি নিয়ে নেন এবং পরে লোকজন জড়ো করে তাঁকে হেনস্তা করে। পরে ডিবি কর্মকর্তারা এসে তাঁর ব্যাগ পরীক্ষা করলে শুধু সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্রই পাওয়া যায় এবং তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেনও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার ভেতরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জনসমক্ষে হেনস্তার ঘটনা তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার সময়রেখা

তারিখ ঘটনা
২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়া বাসা থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার
২৩ আগস্ট (প্রতিবেশ) সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস গ্রেপ্তার
২৯ আগস্ট বিনয় দাস ও পার্থ দাসকে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

এখন লক্ষ্য কী?

পুলিশের প্রধান কাজ এখন জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ডিবি সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে অথবা মুক্তি দেওয়া যেতে পারে; সিদ্ধান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

  • জিজ্ঞাসাবাদ: বেঁধে রাখা মূল প্রক্রিয়া; সন্দেহভাজনদের সঙ্গতিমূলক সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হবে।
  • সোম্প্রীতি-নিয়ন্ত্রণ: স্থানীয়দের উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।
  • সাংবাদিক নিরাপত্তা: সংবাদকর্মীদের স্থানীয় উত্তেজনা থেকে রক্ষা করা জরুরি—এ প্রসঙ্গে তদন্ত হওয়া দরকার।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে তদন্ত ক্রমশ নির্ভুল দিকনির্দেশনা পাবে এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রংপুর মহানগর পুলিশের ডিবি ও কোতোয়ালি থানা এ ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে; মামলার আনুষ্ঠানিক পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সংবাদে জানানো হবে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

32রংপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো রংপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব