রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় গত ২০-২২ আগস্টের মধ্যে ঘটে যাওয়া চারজনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আসামি—মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস—আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার ঘটনাটি তার অফিস থেকে ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন এবং খুনের প্রণালী ও ঘটনার সময়কালের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বর্ণনা: ঘটনার ধারা
আরএমপি কমিশনারের বরাত অনুযায়ী, অভিযুক্তরা জবানবন্দিতে জানিয়েছে যে তারা ইয়াবা সেবন করার জন্য গণপতির বাড়ির ছাদে গিয়েছিল। সেখানেই গণপতি তাদের দেখে ফেললে ঘটনাটি রূপ নেয়। গ্রেপ্তারদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষককে প্রথমে ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার অভিযোগ নেই; বরং তারা তাকে ধরে ধরে গামছা দিয়ে ঘাড়ে টান দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। এরপর নিহত গণপতির লাশ ছাদে টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
আরও বলা হয়েছে, পরে গণপতির স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে উঠে গেলে তারা দুইজনকে ধরে আনে এবং একই পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়। জবানবন্দির বিবরণে অভিযোগ করা হয়েছে যে মেয়েটির মুখ চাপা দিয়ে এবং পরে রশি পেঁচিয়ে মারার চেষ্টাও করা হয়। ঘটনার পরে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নেওয়া হয়েছে—যা পুলিশ প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি আড়াল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
“তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?”
সূত্রে থাকা দেয়া উদ্ধৃতিটি প্রকাশ করে কমিশনার জানান, ওই রাতে অভিযুক্তরা মাদক সেবন করার সময় গণপতি তাদের দেখে ফেলেন এবং এরপরের ঘটনাবলী শুরু হয়—মানসিক অস্থিতিশীলতার ফলে তারা দ্রুত সহিংসতার পথে নামে।
পুলিশ ও মামলার পরিস্থিতি
ব্রিফিংয়ে আরএমপি কমিশনার জানান, অভিযুক্ত দুইজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ঘটনার পরে তারা স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশের হাতে যে তদন্তের প্রাথমিক উপাদান আছে, তা জবানবন্দি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।
- হত্যার পদ্ধতি: ধরন হিসেবে শ্বাসরোধ (গামছা/হাতে মুখ চেপে ধরা) ও রশি প্রয়োগের উল্লেখ আছে।
- হত্যার স্থান: প্রধানত বাড়ির ছাদ; কিছু লাশ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা ছিল।
- গতিবিধি: অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ি থেকে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ মনে করছে।
পুলিশের কর্তৃপক্ষ বলেছে যে জবানবন্দির বিবরণ অনুসারে তারা ঘটনার সময়কাল নির্ণয় ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহে এগিয়ে যাচ্ছে। মামলাটি তদন্তাধীন এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় আরো বিশদ পরীক্ষা, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।
| বিষয় | উল্লেখ্য |
|---|---|
| নিহত | গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও কন্যা (ও আর একজন—পরিবারের চারজন) |
| আদালতে দায় স্বীকার | মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস—স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি |
| প্রাথমিক অভিযোগ | শ্বাসরোধে হত্যা, হত্যার পর লুটপাট |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনাটি রংপুর শহরে অচিরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি নিয়ে উদ্বিগ্ন; স্কুল-শিক্ষক সম্প্রদায়ও শোকাহত। পুলিশ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে, তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক ফলাফল তদন্তকে আরও শক্ত ভিত্তি প্রদান করবে।
আইনি প্রক্রিয়া চালু আছে; অভিযোগ পত্র দাখিল ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর মামলা সমস্যার সমাধান নির্ভর করবে। তদন্তে পাওয়া প্রমাণাদি ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে—তাই পুলিশি ব্রিফিং ও আদালতের কার্যক্রমকে স্থানীয় জনগণ ও সংবাদমাধ্যম নজর রাখছে।