রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় গত ২২ আগস্ট রাতে ঘটানো চারজনের হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস-এর ডোপ টেস্টের জন্য রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রহন করা হয়েছে। এ তথ্য রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
নমুনা সংগ্রহ ও নিরাপত্তা বিবেচনা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন মঞ্জুর করার পর রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্টদের নিয়ে কারাগারে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কারাগার কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আসামিদের রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডটি খুবই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। নিরাপত্তার স্বার্থে আসামিদের কারাগারের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি; বাইরে নিলে হামলা বা মব গঠনের ঝুঁকি ছিল। ফলে টেকনোলজিস্টদের সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
“হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। এই মামলার আসামিদের বাইরে নিয়ে আসা হলে তাদের ওপর হামলা বা যেকোনো সময় মবের সৃষ্টি হতে পারে।”
ডোপ টেস্টের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া
ডিবি তদন্তে বলা হয়েছে, ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আসামিদের মাদক সেবনের বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে পাঠানো দুই জন টেকনোলজিস্ট কারাগারে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্টরা সংগৃহীত ইউরিন স্পেসিমেন দ্রুত মেডিকেল ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে বলে জানান।
- কেন কারাগারে নমুনা নেওয়া হলো: নিরাপত্তাজনিত কারণ—আসামিদের বাইরে আনলে হামলা বা মব তৈরির আশংকা ছিল।
- নমুনা প্রকার: রক্ত ও প্রস্রাব (ইউরিন) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
- টেষ্টের লক্ষ্য: মাদক সেবনের বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা।
ঘটনার পটভূমি ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরই ওই এলাকার দুই তরুণ—মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস—কে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত করছে এবং ডোপ টেস্টসহ অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ | ২২ আগস্ট (রাত) |
| নিবন্ধিত নিহত | গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে (৪ জন) |
| গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি | মুগ্ধ দাস, সিদ্ধার্থ দাস |
| নমুনা সংগ্রহের তারিখ | ৩০ আগস্ট (রোববার) |
রংপুরে এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা দেখা গেছে। সত্যিকার কারণ ও প্রেক্ষাপট নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য ও ফরেনসিক রিপোর্টেই ঘটনাটির চূড়ান্ত ব্যাখ্যা আসবে। ডিবি পুলিশের তদন্তের পরই ঘটনার আরো বিবরণ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।
এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলেই স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলোকে দ্রুত অবহিত করা হবে, এবং মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অনুসরণ করে আইনগত প্রক্রিয়া চালানো হবে।