রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় ঘট modelling করা চার হত্যাকাণ্ডের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ময়নাতদন্তের মূল সিদ্ধান্ত
প্রতিবেদন অনুযায়ী চারজনের প্রত্যেককেই শ্বাসরোধ (অ্যাসফিক্সিয়া) করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে নারীদের ক্ষেত্রে ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হলেও সেখানে ধর্ষণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অনেকে ময়নাতদন্তে উল্লেখিত ‘বীর্য’ বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখায়; পুলিশ তা মৃতদেহের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
“ময়নাতদন্তে যে বীর্যের কথা এসেছে, সেটি মৃতদেহের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ। এটি বাইরের কোনো ব্যক্তির বীর্য নয়।”
আরপিএমপি কমিশনার আরও বলেছেন, আসামিদের পুলিশে দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্য এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দি থেকে অনেক বিষয় আরও স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া ময়নাতদন্তে গলায় ফাঁসের চিহ্ন, চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও নথিভুক্ত রয়েছে যা শ্বাসরোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ফরেনসিক বিবেচনা ও ল্যাব ফলাফল
রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বব্লু কিশোর বিশ্বাস ময়না তদন্তের সময় জানিয়েছেন যে লাশের পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং ল্যাবরেটরিতে পাঠানো নমুনাতেও ধর্ষণের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
- মৃতদের সকলের ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধ কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
- নারীদের ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি।
- ময়নাতদন্তে দেখা বীর্যকে পুলিশ প্রাকৃতিক রীতিতে ব্যাখ্যা করেছে, বাইরের কারো বীর্য নয় বলে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও সামঞ্জস্য বিষয়ে পুলিশ বক্তব্য
কমিশনার মাবুদ বলেন, ঘটনার তদন্তে প্রাথমিক আর ক্লাসিকাল জবানবন্দিগুলো পুলিশের হাতে আছে এবং আদালতে প্রদত্ত জবানবন্দিতে কিছু বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। তিনি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরে শ্বাসরোধের উপসর্গসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু দাবি নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এই দাবিগুলোর বিপরীতে তথ্য দিয়েছেন।
| বিষয় | ময়নাতদন্ত/পুলিশ ব্যাখ্যা |
|---|---|
| হত্যার কারণ | শ্বাসরোধ/অ্যাসফিক্সিয়া |
| ধর্ষণের চিহ্ন | কোনো আলামত পাওয়া যায়নি |
| বীর্য পাওয়া যাওয়ার বিষয় | মৃতদেহের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ — বাইরের বীর্য নয় |
কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্বাসরোধের ক্ষেত্রে মৃতদেহে কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়; এগুলোর মধ্যে বীর্য বা মলমূত্র বেরিয়ে আসা থাকতে পারে। তিনি বলেন, এই ধরনের শারীরিক লক্ষণ ময়নাতদন্তে স্বাভাবিকভাবেই ফাইলে ধরা পড়ে এবং ওই সবই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে—তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে এবং তাদের কাছে প্রাথমিক জবানবন্দি ও অন্যান্য প্রমাণভিত্তিক তথ্য আছে। মামলার আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত ও ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্টে যা বলা হয়েছে, তা পুলিশের ব্যাখ্যার সঙ্গে মিল রয়েছে। তবু স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন জাগছে—তদন্ত পথে কি পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রতিফলন আছে কি না। এইসব প্রশ্ন তদন্তকারীদের সামনে রয়ে গেছে এবং আদালত ও মামলার দফতর মিলিয়ে বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে নিশ্চিত হবে।
সূত্র: আরটিভি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সংবাদ সম্মেলন, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের বিবৃতি।