ডিবি-তে তদন্তভার, নতুন তদন্তকারী
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) নির্মম ভাবে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানার মাধ্যমে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ আগস্ট) রাতে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি প্রতিবেদকদের নিশ্চিৎ করেন। তিনি জানান, মামলার পূর্বের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি সোমবার বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে এসে নথিপত্র নতুন তদন্তকারী, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী-এর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় পৌঁছে পরিদর্শন ও ব্রিফিং করে।
"মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে," — সনাতন চক্রবর্তী।
ময়নাতদন্ত ও গ্রেপ্তার
ময়নাতদন্তকারী ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং দু-একজনের মাথায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতদের মরদেহ শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে মাছুয়াপাড়া থেকে দুই যুবক—মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)—কে গ্রেপ্তার করে। সনাতন চক্রবর্তী বলছেন, গ্রেপ্তার দুই আসামী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হয়েছে, আসামিরা আদালতে একই ধরনের জবানবন্দি দিয়েছেন।
শহরে প্রতিক্রিয়া: শিক্ষার্থী-সহ বিক্ষোভ
ঘটনায় রংপুর জিলা স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা বিচার দাবি করে মানববন্ধন, শোক মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে শহরের কাচারীবাজারে।সংগঠিতদের মধ্যে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক সাফিয়ার রহমান ও সাবেক শিক্ষার্থী চৌধুরী মাহমুদুন নবী ডলারসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। তারা পুলিশ থেকে সত্য উদঘাটন এবং খুনিকে আড়াল না করার আহ্বান জানান।
জেলা বিভিন্ন সংগঠন, মহানগর নাগরিক কমিটি কিংবা দোকান ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরাও বিকেলে প্রেসক্লাব চত্ত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে হত্যাকাণ্ডের ন্যায়সম্মত তদন্তের দাবি জানায়।
ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২২ আগস্ট (শনিবার) | মাছুয়াপাড়া বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার |
| ২৩ আগস্ট (রবিবার) | মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস গ্রেপ্তার; ময়নাতদন্তের ফলাফল প্রকাশ |
| ২৪ আগস্ট (সোমবার) | মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর; নতুন তদন্তকারী—পরিদর্শক জিন্নাত আলী |
স্থানীয় প্রভাব ও অনুসন্ধানী দাবি
স্থানীয়দের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ এবং নিরাপত্তা-চিন্তা দেখা দিয়েছে। জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের বক্তারা উল্লেখ করেছেন যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির তার ও বৈদ্যুতিক তার কাটা থাকা, চারজনকে হত্যা করে আশপাশের কেউ টের না পাওয়া—এই ধরনের অস্বাভাবিক বিষয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। তাদের দাবি, এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হবে এবং দ্রুত ও সুষ্পষ্ট ফলাফল জানানো হবে।
- তদন্তের গতি: ডিবির হাতে মামলার স্থানান্তর ঘটনার ফলে তদন্ত আরও গভীরভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা বাড়ায়।
- সামাজিক প্রতিক্রিয়া: শিক্ষার্থী ও নাগরিক সংগঠনের বিক্ষোভ শহরে চাপ সৃষ্টি করেছে যাতে আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো তৎপর হয়।
- নিরাপত্তা প্রশ্ন: এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি কীভাবে ব্যাহত হল—তার বিশদ তদন্ত চাওয়া হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ ও ডিবি ঘটনার তদন্তে যে-রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা স্থানীয়দের নজরেই রয়েছে। প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা সমাধান এবং বিচারের পথ কী হবে সে সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য জানা যাবে। রিপোর্টিংয়ে আমরা আইননিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে তদন্তকারীদের প্রাপ্ত তথ্যমতো পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করব।