শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ময়মনসিংহ ক্যামব্রিজ মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়াসিন তাফসির অভি বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে দ্রুততম গণিত সমাধানে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। অলিম্পিয়াডে মোট ১৪টি দেশের প্রায় ১,৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে অভি দু’টি গোল্ড মেডেল অর্জন করেছেন এবং 'চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন' ও 'সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন' শিরোপা লাভ করেন।
অভিসহ লাভ ও স্বীকৃতি
অলিম্পিয়াডে অর্জিত এই কৃতিত্বের জন্য তাকে বিশেষ সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর পক্ষ থেকে। অভির আবেগঘন অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, তার এই সাফল্য না কেবল পারিবারিক আনন্দ বাড়িয়েছে, বরং পুরো জেলা ও দেশের শিশুদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।
অভি মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও ছোটবেলায় নতুন কিছু শেখার প্রবল আগ্রহ ছিল। তিনি অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘এডুটিউন’-এর মাধ্যমে অ্যাবাকাস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে তিনি জুনিয়র লেভেল শেষ করে অ্যাডভান্স লেভেলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং স্পোকেন ইংলিশেও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ ও ধারা
প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে অভি ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর জুনিয়র লেভেলে অংশ নিয়ে 'চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন' শিরোপা অর্জন করেন। এরপর ২০২৬ সালের ২ মার্চ অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে তিনি তার দক্ষতা প্রদর্শন করে 'সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন' খেতাব জয় করেন। এই ধারাবাহিকতা তার কঠোর অনুশীলন ও মনোসংযোগের প্রতিফলন বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন।
"ছেলের এই অর্জন পুরো দেশকে গর্বিত করেছে,"—বলেছিলেন অভির বাবা ইমরান হাসান রাব্বী।
প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
অভির শ্রেণিকক্ষ ও এলাকাটি এখন উৎসবে মেতে উঠেছে। পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। ময়মনসিংহ ক্যামব্রিজ মডেল স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীরা অভির অনুশীলন ও মনোযোগকে প্রশংসা করেছেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে উৎসাহ প্রদানের কথা জানানো হয়েছে।
- প্রশিক্ষণ মাধ্যম: অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'এডুটিউন'
- বর্তমান স্তর: অ্যাডভান্স লেভেল প্রশিক্ষণগ্রহণকারী
- অলিম্পিয়াড অংশগ্রহণ: জুনিয়র লেভেল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পর্বে 'সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন'
স্থানীয় শিশুদের জন্য উদাহরণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
অভির এই কীর্তি স্থানীয় শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনা বাড়িয়েছে। এলাকার শিক্ষকরা বলছেন, প্রতিভার বিকাশে পরিবারের সমর্থন ও আধুনিক প্রশিক্ষণ—উভয়েরই গুরুত্ব এতেযথেষ্ঠ। অভি যেমন অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেছে, তেমনি গ্রামের অন্যান্য শিশুদেরও অনলাইন ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ মিলিয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে প্রস্তুত করা সম্ভব বলেই তারা মনে করেন।
স্থানীয়রা আশাবাদী যে অভির সফলতা শেরপুর জেলার অন্যান্য শিশুদের মধ্যে মেধা ও মননের বিকাশে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি শিক্ষানীতিতে আলোকপাত করবে—স্কুল-পরিবার-প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ কিভাবে প্রতিভা গড়ে তোলে তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার নেপথ্য ঘটবে।
| বিষয় | নোট |
|---|---|
| অর্জিত মেডেল | দুইটি গোল্ড মেডেল |
| শিরোপা | 'চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন' ও 'সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন' |
| বিশ্ব রেকর্ড স্বীকৃতি | বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস প্রমাণপত্র |
অবশেষে, অভির পারিবারিক পরিচয় সংবাদে উল্লিখিত—তিনি ঝিনাইগাতীর সাংবাদিক ইমরান হাসান রাব্বী ও ঝর্ণা আক্তার দম্পতির ছেলে। অভি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার লক্ষ্য ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয়রা আশাবাদী, সঠিক নির্দেশনা ও সমর্থন থাকলে জেলা ও দেশের একাধিক শিশুই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।