শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী সীমান্তে ময়মনসিংহ সেনাবাহিনীর ৩৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবি শনিবার ভোর রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ৭০৫ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে। জব্দকৃত মদের সিজার মূল্য সরকারি হিসেবে প্রায় ৳১০৫৭,৫০০ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযান ও উদ্ধারকৃত মালামাল
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নালিতাবাড়ী উপজেলার ১ নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা-পোড়াবাড়ী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার গুরুচরণ দুধনই সীমান্ত এলাকায় গোপন সংবাদের আধারেই পৃথক দুটি টহলদল অভিযান চালায়। অভিযানে উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মদগুলো গুড়িয়ে রেখে পালিয়ে যায়; পরে মালিকবিহীন অবস্থায় ওই মদাবলি উদ্ধার করা হয়।
“মাদক নির্মূলে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।”
৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ এই নীতির কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন সীমান্তবর্তী স্থানে মাদক, চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে তারা ২৪ ঘণ্টা সতর্ক রয়েছে। তিনি আরো জানান, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে অভিযান ও কড়া অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রভাব
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও মাদক পাচারের ঘটনা রিপোর্ট হওয়া যায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দাবি, নিয়মিত টহল ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই ধরনের উদ্ধার ও সীজার কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের কাছে ইস্যুটির সামাজিক ও আইনগত প্রভাব রয়েছে—বিশেষ করে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় এমন কৌশলগুলো স্থানীয় সমাজে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বাড়ায়।
- উদ্ধারকৃত পণ্যের পরিমাণ: ৭০৫ বোতল
- সিজার মূল্য (প্রায়): ৳১০৫৭,৫০০
- অভিযানকেন্দ্র: বুরুঙ্গা-পোড়াবাড়ী (নালিতাবাড়ী), গুরুচরণ দুধনই (ঝিনাইগাতী)
সম্প্রতি সীমান্তে অভিযানের ধারাবাহিকতা
বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল বৃদ্ধি, নজরদারি ও গোপনসংবাদের উপর নির্ভর করে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। যদিও এই রিপোর্টে অভিযানে গ্রেফতারির কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি, উদ্ধারকৃত মালামাল স্থানীয় ইউনিটে হস্তান্তর ও রেকর্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
| অবস্থান | উদ্ধারকৃত বোতলের সংখ্যা | আনুমানিক সিজার মূল্য |
|---|---|---|
| বুরুঙ্গা-পোড়াবাড়ী (নালিতাবাড়ী) | — | ৳১০৫৭,৫০০ (মোট) |
| গুরুচরণ দুধনই (ঝিনাইগাতী) | — |
টেবিলে পৃথকভাবে বোতলের আলাদা সংখ্যা উল্লিখিত না থাকায় মোট পরিমাণই জনানো হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার উল্লেখ করা হয়েছে; ভবিষ্যতে আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় জব্দকৃত পণ্যের তদন্ত ও নিষ্পত্তি হবে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জনচরিত্র
বিজিবি মোতাবেক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কড়া নজরদারি বজায় রাখা হলেও চোরাকারবারিরা মাঝে মধ্যে নতুন কৌশল প্রয়োগ করে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা বলছেন, সীমান্ত-related অপরাধ সামাজিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
বিজিবি তাদের হিসাব অনুযায়ী ভবিষ্যতেও সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালানি পণ্য প্রবাহ রোধে এমন অভিযান অব্যাহত রাখবে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর এই ধরনের পদক্ষেপে সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি থাকতে পারে, তবে অপরাধীদের ধরায় ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তোলা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করা হয়।
এই বরাত-নির্ভর খবরের সূত্র: ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)।