শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের কাটাখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা গত ১৩ আগস্ট সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ আসমা বিনতে রফিক।
প্রকল্পের পরিধি ও উদ্দেশ্য
এই প্রকল্পটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি)-র অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুরুর ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো, স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও মৎস্যচাষের সহায়ক অবকাঠামো সৃষ্টি করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের অংশ হিসেবে মোট ৪.২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
কী নির্মাণ করা হয়েছে
প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে খাল পুনঃখননের পাশাপাশি নানা ধরনের স্থাপনাও করা হয়েছে যাতে খালের কার্যকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। প্রধান নির্মাণ কাজগুলো নিম্নরূপ:
- প্রায় ১,৬০০টি বৃক্ষ রোপণ (কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল, সোনালু ইত্যাদি প্রজাতি)
- ১৬০টি রিং কালভার্ট
- ৩টি কাঠের সেতু
- ৩টি ইউ-ড্রেন
এই সব অবকাঠামো খালের দু’পাশের মানুষের চলাচল সহজ করবে এবং কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন নিশ্চিত করবে বলে প্রকল্প কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জানান।
কর্মসংস্থান ও বাস্তবায়ন সময়সীমা
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কাজ শুরু হয় ১৩ মে এবং শেষ হয় ৩০ জুন—প্রায় পেড়ায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পুনঃখনন কাজ চলাকালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন, যা অতিদরিদ্রদের জন্য জরুরি আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
"আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছি।"
এ বক্তব্যটি শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিবের।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম
জেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা জানায়, মৌসুমী বৃষ্টির কারণেই কিছু স্থানে মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। তারা বলেছে বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করার কাজ করা হবে। এছাড়া খালটির দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে—বিশেষত রোপিত গাছগুলোকে স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
স্থানীয় কৃষক ও জেলে-সমাজ বলে যে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও বদ্ধ অবস্থায় থাকা খালটির আধুনিকভাবে পুনঃখননের ফলে ফসলি জমিতে সেচ যোগান সহজ হবে এবং অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা মিলবে। স্থানীয়রা মনে করেন নদী-নালা ঠিকঠাক থাকলে মৎস্য চাষও চরিত্র বদলে যেতে পারে এবং সীমিত সময়ে আয়ের উৎস বৃদ্ধি পাবে।
| বিষয় | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| খাল পুনঃখননের দৈর্য | ৪.২২৫ কিলোমিটার |
| মোট বরাদ্দ | প্রকল্প সূত্রে মোট বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা (উৎস উল্লেখ) |
| অব্যয়িত ফেরত | ৬৮,২৬,৩৮৭ টাকা |
| প্রতিদিবস কর্মী সংখ্যা | ৫৯৫ জন |
| অতিরিক্ত নির্মাণ | ১৬০ রিং কালভার্ট, ৩ কাঠের সেতু, ৩ ইউ-ড্রেন, ~১,৬০০ বৃক্ষরোপণ |
কাজের স্বচ্ছতা ও আগামী প্রশ্ন
সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের অব্যয়িত অংশ ফেরত পাঠানো হলেই প্রকৃত অর্থে বাজেট ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতার ইঙ্গিত মেলে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা জানতে চায় দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিশ্রুত বাজেট ও কর্তৃপক্ষের সক্রিয় নজরদারি কবে থেকে শুরু হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা জানিয়েছে মেরামতের কাজ বৃষ্টি কমলে সম্পন্ন করা হবে; তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ছাড়া স্থায়ী সুফল এখনই নিশ্চিত করা যাবে না।
শেরপুর সদর উপজেলা কার্যালয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখার কর্মকর্তারা বলেন, খাল পুনঃখনন কাজের ফলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশগত অবস্থার উপর ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে এবং আগামী মৌসুমে এর প্রভাব অধিক স্পষ্ট হবে।