শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাইস কুকারে ভাত রান্নার সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কুলসুম আক্তার ভুলি (৪০) নামে এক গৃহিণীর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানান, তিনি ওই এলাকার ফুরকান আলীর স্ত্রী ও দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পরিবারের মাতৃদায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা ও হাসপাতালে নেওয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কুলসুম আক্তার ভুলি নিজ বাড়িতে ভাত রান্না করছিলেন। এই সময় রাইস কুকারের কাজের সময়ই তিনি বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও হাসপাতালের বক্তব্য
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. তানভীর আহমেদ সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, নিহতকের হাতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
“কুলসুম আক্তার ভুলি রাইস কুকারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। তার হাতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল; সিনিয়র কর্মকর্তাদের পরামর্শে পুলিশ মরদেহ হস্তান্তর করে। পুলিশ জানায়, ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
ফকিরপাড়া এলাকায় বিদ্যুতের সরবরাহ ও হোম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। জোনটির অনেক পরিবারের নিকটস্থ প্রযুক্তিগত সহায়তা বা বৈদ্যুতিক দক্ষতার অভাব রয়েছে বলে ক্রমান্বয়ে জানা গেছে। মানুষজন বলছেন, রাইস কুকার, মাইক্রোওভেন বা অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা ভ্যাটার্ড প্লাগ-সকেট দুর্বল হলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
- ঘটনার সময়: ২২ আগস্ট, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা (বাড়িতে)
- মৃত্যু নিশ্চিত: শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে, সন্ধ্যা ৭টা
- আইনী পদক্ষেপ: অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া
প্রয়োজনে অনুসরণীয় ব্যবস্থা
পুলিশ ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াও এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কিছু কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, যা স্থানীয় রেসপনস বা প্রশাসন থেকে ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। গৃহস্থালির বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা বিধি মানা, ত্রুটিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করা, নিয়মিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পরিদর্শন ও যোগ্য বিদ্যুৎকর্মীর পরামর্শ নেয়া — এসব মৌলিক পদক্ষেপ দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক।
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | কুলসুম আক্তার ভুলি, ৪০ বছর |
| স্থান | ফকিরপাড়া, পাকুরিয়া ইউনিয়ন, শেরপুর সদর উপজেলা |
| সময় | ২২ আগস্ট, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে (ঘটনা), সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্যু নিশ্চিত |
| প্রক্রিয়া | মরদেহ হস্তান্তর; অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া |
শেরপুরের এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যদি দ্রুত ভাবে গৃহস্থালির বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করে, তা ভবিষ্যতে অনুরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে রোধ করতে সহায়ক হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
রিপোর্ট: মোঃ নাইমুর রহমান তালুকদার/এমটিআই