বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বাগড়া এলাকার প্রধান সড়কে সম্প্রতি করা আরসিসি ঢালাইয়ের একাংশে ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল ও ভেতরে বড় ফাঁকা দেখা গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন—উপরে থেকে সব ঠিকঠাক দেখাতে নিচের ফাঁকা অংশগুলোতে কাঁচা ইট ঢুকিয়ে মেরামত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা নির্মাণকাজে ফান্ডের অপচয় ও নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত দেয়।
কী দেখেছে এলাকাবাসী ও সাংবাদিক
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে বাগড়া এলাকা পরিদর্শন করলে সদ্য ঢালাই করা আরসিসি কংক্রিটের ওপর একাধিক দীর্ঘ ফাটল চোখে পড়ে। ধীরে কাছে গেলে বোঝা যায়, ঢালাইয়ের নিচের বালি সরে গিয়ে ভেতরে ফুটো তৈরি হয়েছে—কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্ত। স্থানীয়রা বলছেন, ওই ফাঁকগুলো আড়াল করতে ঠিকাদারের শ্রমিকরা কাঁচা ইট চাপা দিচ্ছেন, ফলে উপর থেকে দেখলে সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হয়।
বাসিন্দাদের ক্ষোভ
বাগড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সড়টিটি প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ব্যবহার করে—ট্রাক, অটো, সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ি। ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, তড়িৎগতি ও নিম্নমানের নির্মাণ দ্রুত ধসে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। স্থানীয় করিম হোসেন বলেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এমন ভুয়া কাজ কিভাবে allowed হলো—কয়েক মাসও টেকবে না এটা।” আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের রড, সিমেন্ট ও বালি ব্যবহারের অভিযোগ ছিল; তবু ঠিকাদার কোনো মনোযোগ দেয়নি।
“বাগড়া এলাকার ওই সড়কের অনিয়ম ও কাজের ফাঁটল সংক্রান্ত বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। দ্রুতই আমাদের একটি প্রতিনিধি দল সরজমিনে পাঠানো হবে,”
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বগুড়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের এ প্রতিশ্রুতির কথাই দেওয়া হয়। তিনি দুর্নীতির কথায় পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রজাতান্ত্রিক তদারকি ও স্থানীয় দাবি
স্থানীয়রা শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। তারা চান—নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংকেতকর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক। দাবি করা হচ্ছে, মেরামত বন্ধ রেখে প্রকৃত স্থায়িত্ব নির্ণয়ের জন্য উন্নতমান পরীক্ষাসহ প্রসবশীল উপায়ে সমাধান করা হোক।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ থেকে তথ্য
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী সমস্যা ও জরুরি দাবি সংক্ষেপে:
- প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের অংশে ফাটল দেখা গেছে (স্থানীয় বর্ণনা)।
- নিচের বালি সরে গিয়ে ভেতরে বড় ফাঁকা তৈরি হয়েছে, তা ঢাকতে কাঁচা ইট ভরে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
- এলাকা প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন পার হওয়ায় দ্রুত ধসে পড়লে মানুষের জীবন-জীবিকা ও যান চলাচলে বড় ব্যাঘাত ঘটবে।
ক্ষতির সম্ভাব্য পরিধি ও অর্থাৎ সওজের দায়বদ্ধতা
সড়কের কাজে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের নিরাপত্তা ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করাও এই সমস্যার প্রধান দিক। স্থানীয়রা জানায়, শুরু থেকেই নির্মাণকর্মে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিয়ে তারা আপত্তি তুলেছিলেন—তখন তা গ্রহণ করা হয়নি। সড়কটি দ্রুত খারাপ হলে দীর্ঘমেয়াদে মেরামত ও পুনর্নির্মাণে আরও বড় ব্যয় ধরা পড়বে।
| বিষয় | অবস্থা/দাবি |
|---|---|
| সড়কের দৈর্ঘ্য (সমস্যাগ্রস্ত অংশ) | প্রায় ১ কিলোমিটার (স্থানীয় বর্ণনা) |
| ভিতরের অবস্থা | বালি সরে ফাঁকা, কাঁচা ইট ভরে আচ্ছাদন করার অভিযোগ |
| প্রতিদিনের যান চলাচল | হাজার হাজার যানবাহন |
আগামী করণীয়
নির্দিষ্টভাবে তল্লাশির জন্য সওজকে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মিলিয়ে দ্রুত একজন বা একটি প্রতিনিধিদল পাঠাতে বলা হচ্ছে—যেমনটি নির্বাহী প্রকৌশলী উল্লেখ করেছেন। স্থানীয়রা চান, কাজ বন্ধ করে নথিভুক্তি, উপকরণ পরীক্ষা ও মাপ-দণ্ড অনুযায়ী সমাধান আনা হোক। ফলে স্থানীয় জনগণ ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে ও সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ হবে।
এই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত ও অভিযানের পরবর্তীতে সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ এবং ফলাফল ভিন্ন করে পাঠকদের জানাতে থাকবে।