শেরপুরের রান্নাঘর থেকে সিএনজি স্টেশনের সারি—সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত
শেরপুরে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে তীব্র কষ্ট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাত ১০টা থেকে জেলা জুড়ে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং গত বিবরণ অনুযায়ী ঘটনাটি চলতি লেখার সময় পর্যন্ত প্রায় ৬২ ঘণ্টা ধরে অব্যহত রয়েছে। ফলে শহর ও গ্রামে প্রায় ৪ হাজার পরিবার সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন।
গৃহিণীরা বলছেন রান্নাবান্না বন্ধ, বাজারভর্তি খাবারে ব্যয় বেড়েছে এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে কিনে খাওয়ায় নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় অনেকে মাটির চুলা বা কাঠের চুলা ব্যবহার করে রান্না করছেন, কিছু পরিবার হোটেলে খাবার কিনে খাচ্ছেন। শেরপুর শহরের রাজাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শারমিন জাহানের কথায়,
“গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্নাবান্না হয় না। তাই বাড়তি দামে দুদিন ধরেই হোটেলে খাচ্ছি। জানি না কবে গ্যাস আসবে। তাই আজ ছাদের উপরে ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে রান্না করছি।”
সংক্রমণ বা মৌসুমি ভাঙন—কোনটি এই বন্ধের কারণ—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, তিতাস গ্যাসের শেরপুর জেলার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে সরবরাহ স্বাভাবিককরণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সময় সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
পরিবহন সেক্টরে প্রতিকূলতা ও ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ
শুধু ঘরেই সীমাবদ্ধ নয়; সিএনজি চালিত অটোরিকশা বন্ধ থাকায় শহর ও জেলার গণপরিবহনে ঝটিকা দেখা দিয়েছে। জেলার একমাত্র সিএনজি স্টেশন কার্যত স্থবির হওয়ার ফলে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং অনেকে বাড়তি ভাড়া দাবি করার অভিযোগ তুলেছেন। সিএনজি চালক আবুল হোসেন বলেন, তারা গ্যাস না পেলে কর্মজীবন দিতে পারছেন না এবং পারিবারিক উপার্জন রক্ষায় দ্রুত সমাধান চান।
স্থানেরুপাত ও ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির কেলেঙ্কারি ও ব্যয়ও বাড়ছে। শহরে সীমিত সংখ্যক বিকল্প লিকুইড ফুয়েল বা সিলিন্ডার উপলব্ধ হওয়ায় দরকষাকষি ও মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধ প্রতিফল দেখা দিয়েছে। এতে হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষতি বেশি পড়েছে।
- প্রভাবিত পরিবার: প্রায় ৪০শ পরিবার (প্রতিবেদন অনুযায়ী)
- সংকটকাল: বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত প্রায় ৬২ ঘণ্টা গ্যাস না থাকা
- সেক্টর: গৃহস্থালি রান্না, সিএনজি পরিবহন, বিকল্প জ্বালানির বাজার
স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিক্রিয়া ও পরিকল্পনার অপেক্ষায় আছে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক ও গৃহিণীরা। যতক্ষণ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হয়, ততক্ষণ এই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতিতে কড়াভার পড়তেই থাকবে।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| গ্যাস সরবরাহ বন্ধ | বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে (প্রতিবেদন অনুযায়ী) |
| সম্ভাব্য প্রভাবিত পরিবার | প্রায় ৪,০০০ |
| চলমান সময়কাল | প্রায় ৬২ ঘন্টা |
অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে বিকল্প জ্বালানি সংরক্ষণ ও অসামাজিক দামের বিরোধিতা করতে স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা সংগঠনের কাছে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ ঘটনায় শেরপুরবাসীর অস্থিরতা বিরামহীন; প্রত্যাশা করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করবে যাতে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন দ্রুত স্বাভাবিকায়ন হয়।