শেরপুর জেলা খাদ্য বিভাগের চলতি বছরের সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে ধান সংগ্রহ শেষ হলেও আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে চাল সংগ্রহ শেষ করার কথা রয়েছে। এ কাজে সদর উপজেলার তফসিলভুক্ত ৪৩টি চালকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় থাকা কিছু মিলের মালিকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বরাদ্দ পরিমাণ ঘিরে উদ্বেগ ও প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে।
রাজনৈতিক সংযোগ ও অভিযোগ
তথ্য অনুযায়ী, ওই ৪৩টি চালকলের মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি চালকলের মালিককে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সময় জায়গা ও রাজনৈতিক পদে পরিচিত। এছাড়া তালিকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে আছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র হত্যা মামলার অভিযোগ; তাদের মধ্যে কয়েক জন পলাতক রয়েছে।
“শেরপুর সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহের জন্য চুক্তিবদ্ধ মিলগুলোর তালিকায় রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে,”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালিকার প্রথমদিকের কিছু প্রতিষ্ঠানের যথেষ্ট বড় বরাদ্দ রয়েছে, যা নিয়ে অন্য চালকলগুলোতে অসন্তোষ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ গুলি সরাসরি খাদ্য বিভাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় স্বার্থের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কোন কোম্পানিগুলো ও তাদের বরাদ্দ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তালিকার শীর্ষে রয়েছে কিছু মিল, এবং তাদের প্রতি বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। তালিকাভুক্ত কিছু মিল ও তাদের বরাদ্দের সংক্ষেপ এখানে দেওয়া হলো:
| চালকল | বরাদ্দ (মেট্রিক টন) |
|---|---|
| মেসার্স মর্ডান রাইস মিলস প্রা. লি. | ৩২২.৭৭০ |
| শ্রাবণ-বাঁধন অটোমেটিক চালকল | ৪৫১.৮৯০ |
| সদু অটো চালকল | ৭১৫.৫০০ |
| সেলিম রেজা অ্যান্ড ফরিদা ইয়াসমিন অটো চাউলকল | ৫০৩.৫২০ |
| মেসার্স ওয়াহেদ অটো রাইস মিল | ৮৫৮.৬০০ |
| মেসার্স মেঘনা রাইস মিল | ৩০.১২০ |
উপরের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে নির্দিষ্ট কয়েকটি মিলকে হাতে-কলমে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—এতে স্থানীয় চা-অর্থনীতির পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছে অনেকে।
কোন নেতারা তালিকায়.
প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী তালিকাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক পৌর মেয়র, যিনি ২০২৪ সালের ছাত্র হত্যা মামলার একজন আসামি ও পলাতক হিসেবে নামে এসেছে। অন্যদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও শহরের ব্যবসায়িক সংগঠনের সাবেক সভাপতি আছেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের এক সাম্প্রতিক সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটি মিলের মালিকও তালিকাভুক্ত।
- চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মিলগুলোর মালিকানার রাজনৈতিক সংরূপ নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ প্রশ্নবিদ্ধ।
- কয়েকটি মিলকে অনুকূল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—এটি কেন ও কীভাবে নির্ধারিত হয়, তার ব্যাখ্যা চান অনেকেই।
- চাল সংগ্রহ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা—৩১ আগস্ট—নজরদারির বিষয়।
শেরপুর জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে তালিকা ও বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য তাঁদের প্রস্তুতকৃত সার্বিক তালিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময়, নির্ধারিত বরাদ্দ উপস্থাপন ও স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগজাত বিষয়গুলোতে অনুসন্ধান ও নীতিগত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে; বিশেষত যখন সরকারি খাদ্য সংগ্রহ সরাসরি গৃহহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় প্রশাসন, খাদ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সচ্ছতা ও পরিমাপযোগ্য ব্যাখ্যা দাবি করছে এলাকাবাসী।