শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে কাটাখালী খাল পুনর্খনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে বরাদ্দের অব্যয়সহ ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক। জাতীয় পর্যায়ে ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশে সুফল আনার পাশাপাশি জনশ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্পের পরিসর ও কোথায় কাজ করা হয়েছে
প্রকল্পের আওতায় মোট ৪.২২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করা হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছিল ১৩ মে ২০২৬ ও কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে ৩০ জুন ২০২৬-এ কাজ শেষ করা হয়—এই তথ্য দিয়েছেন শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখার কর্মকর্তা ও প্রকল্প সদস্যসচিব রকিবুল হাসান। এরপর ১৩ আগস্ট সরকারি কোষাগারে অব্যয়িত অর্থ জমা করা হয়।
নিম্নলিখিত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে
- ১৬০টি রিং কালভার্ট স্থাপন
- ৩টি কাঠের সেতু নির্মাণ
- ৩টি ইউ-ড্রেন নির্মাণ
- খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষে রোপণ
প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখার সূত্রে জানানো হয়, রোপিত গাছের মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। নির্মিত কালভার্ট ও ড্রেন ও সেতুগুলো খালের দুই পাশে যাতায়াত সহজ করবে, কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
“আমাদের প্রকল্পের কাজ গত ১৩ মে শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। খাল পুনর্খননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।” — রকিবুল হাসান, শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)
অর্থায়ন ও কর্মসংস্থান
প্রকল্পটির জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়েছে উল্লেখিত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা জানিয়েছে, কাজ চলাকালীন দৈনিকভাবে প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। এ অবস্থায় স্থানীয় অতিদরিদ্রদের স্বল্প মেয়াদী কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
| দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প নাম | কাটাখালী খাল পুনর্খনন |
| বরাদ্দ | ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা |
| অব্যয়িত ফেরত | ৬৮,২৬,৩৮৭ টাকা |
| খাল দৈর্ঘ্য | ৪.২২৫ কিমি |
| কর্মকর্তা | আসমা বিনতে রফিক (ইউএনও) |
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা গত ১৩ মে পয়েস্তিরচর এলাকায় প্রকল্প উদ্বোধন করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখার কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট থাকা খাল পুনর্খননের ফলে কৃষি উৎপাদন, মৎস্যচাষ ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
প্রকল্পের ধারাবাহিকতা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ রয়েছে—বিশেষত রোপিত গাছগুলোর সুষ্ঠু যত্ন এবং নির্মিত কালভার্ট ও সেতু ব্যবহারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকল্প সামগ্রিকভাবে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নিশ্চিত করতে যে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনা দরকার, তা পরিকল্পনামূলকভাবে করা জরুরি বলে অভিযোগও রয়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয়রা আর্থিকভাবে কিছুটা সান্ত্বনা পেয়েছেন, তবে প্রকৃত ফসল উৎপাদন ও মৎস্যউৎপাদনে কবে পরিবর্তন দেখা যাবে তা নিরীক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছে।