ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ঢাকা—ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর ও ধারাবাহিকভাবে ফুটপাত ও সড়ক সংলগ্ন নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য স্তূপ জমে আছে। স্থানীয়রা বলছেন, এসব ময়লার কারণে পরিবেশ দূষণ ছড়াচ্ছে, দুর্গন্ধ বিরক্ত করছে এবং জমে থাকা জলে মশার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য vector-বাহিত রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
কোথায় কতটা ময়লা জমে আছে?
সরেজমিনে দেখা যায় নাসিরগ্লাস এলাকা থেকে ভালুকা ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় ও ফুটপাত জুড়ে ব্যাপক ময়লা পড়ে আছে। স্থানীয়রা বিশেষ করে কয়েকটি স্থান চিহ্নিত করেছেন—হবিরবাড়ী, মাস্টারবাড়ী, আমতলী মায়ের মসজিদের পাশ, সিডস্টোর বাজারের উত্তর পাশ এবং পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রশিকা মোড়।
| হটস্পট | সমস্যার ধরন | প্রতিবেদনকারীর উল্লেখ |
|---|---|---|
| হবিরবাড়ী | ফুটপাত জুড়ে বর্জ্য, দুর্গন্ধ | পথচারী ও স্থানীয়রা |
| মাস্টারবাড়ী | রাতের আঁধারে বর্জ্য ফেলা | জরায় সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ |
| সিডস্টোর বাজার উত্তর পাশ | জমে থাকা পানি—মশাবৃদ্ধি আশঙ্কা | সংলগ্ন বাসিন্দারা |
স্থানীয়দের কষ্ট-অনুভব
ফুটপাত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুলছাত্র-ছাত্রী, স্থানীয় কর্মজীবী ও পথচারীরা বাধ্য হয়ে দ্রুতগামী যানবাহনের মাঝেই চলাচল করতে হয়। স্থানীয় একটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা জানায়, ফুটপাতে ময়লা থাকায় নিরাপদ পাশ দিয়ে না গেলে সড়কে চলতে হয়, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কয়েকজন পথচারী বলেন, গাড়ির চাপে প্রায়ই ভয়ে ছটফট করতে হয়—তা আবার বয়স্ক ও শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ
ময়লার তীব্র দুর্গন্ধ ছাড়াও কুকুর, শেয়াল ও কাকের মাধ্যমে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসবাসকারী কয়েকশ শিক্ষার্থী ও শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে আছে। জমে থাকা জল ও পচা ময়লা মশার বংশবিস্তার বাড়াতে পারে—যা ডেঙ্গু আতঙ্ক বাড়িয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসাশাখা বা স্বাস্থ্য কর্মীর বক্তব্য সরাসরি না থাকলেও বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন যে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগ জ্বর বা তীব্র সম্প্রসারণের আশঙ্কা বাড়বে।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন জানান, মহাসড়ক থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই ময়লা অপসারণ করা হবে। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান ঘটনাস্থল সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন—
“মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্জ্য ফেলে জনভোগান্তি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত এসব ময়লা অপসারণ এবং নির্ধারিত স্থানে তা ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
স্থানীয় দাবি ও দরকারি ব্যবস্থা
স্থানীয়রা দাবি করেন:
- মহাসড়ক ও ফুটপাত থেকে ময়লা তৎক্ষণাৎ অপসারণ করা
- নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা চক্র চালু রাখা এবং দায়িত্বশীল টিম গঠন
- অবৈধভাবে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে নজরদারি ও আইনানুগ পদক্ষেপ
তারা বলেন, রাতের আঁধারে ময়লা ফেলা ও ময়লা ফেলার পিছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম না করলেও অভিযোগ রয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা পৌরকর্মীরা তাদের বাধা দিতে পারছেন না।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রভাব
কর্তৃপক্ষ অপসারণের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কমাতে প্রয়োজন স্থায়ী পরিকল্পনা—নিয়মিত কাঁচা ও সলিড বর্জ্য সংগ্রহ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে বর্জ্য নিষ্পত্তি। এসব না হলে শুধু অস্থায়ীভাবে ময়লা সরালেও পুনরায় একই সমস্যা ফিরে আসবে।
স্থানীয়দের নিরাপত্তা, পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমাতে এবং মহাসড়কের ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে পরিবেশকর্মী ও চেনাশোনা বাসিন্দারা মনে করছেন।