ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা গেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. শাহাদত উল্লাহ বুধবার (১৯ আগস্ট) নিশ্চিত করেছেন, গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৭১,০৬৬টি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে।
আবেদনের প্রবণতা ও বিষয়ভিত্তিক চাহিদা
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনে সবথেকে বেশি আবেদন এসেছে ইংরেজি বিষয়ে; তার পরে রয়েছে গণিত এবং তৃতীয় অবস্থানে রসায়ন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, শুধুমাত্র প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীরাই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্য থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন এসেছে।
“১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ ছিল। এ সময় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৭১,০৬৬টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি, এরপর গণিত ও রসায়নের জন্য আবেদন হয়েছে,”
বোর্ডভিত্তিক ফলাফল—সংখ্যায় উপস্থাপন
বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ময়মনসিংহ বোর্ডে চলতি বছরের পরীক্ষা ও ফলের প্রধান পরিসংখ্যানগুলো নিম্নরূপ:
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী | ১,০৯,৬১৩ |
| উত্তীর্ণ | ৬০,২৭৪ |
| পাসের হার | ৫৭.৩৯% |
| জিপিএ-৫ প্রাপ্ত | ৫,৭০০ |
উল্লেখ্য, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ২৮,৩৭২ ও ছাত্রী ৩১,৯০২; জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ২,৬২১ এবং ছাত্রী ৩,৭৯ জন। এছাড়া বোর্ডের অধীনে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
কারণ ও প্রভাব
বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাসের হার কমে যাওয়া, কাঙ্ক্ষিত গ্রেড না পাওয়া ও নম্বর নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের ঝোঁক বেড়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশের পর্যায়ে পুনঃনিরীক্ষার জন্য ব্যাপক আবেদন জমা পড়ার প্রবণতা দেখা গেছে; ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭১ হাজারের বেশি আবেদন সেই nationwide প্রবণতার অংশ বলে বোর্ডে অভিজ্ঞান করা হয়েছে।
- আবেদনের সময়সীমা ছিল: ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট।
- সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে ইংরেজি বিষয়ে, এরপর গণিত ও রসায়নে।
- আবেদনের পর পুনঃনিরীক্ষণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে এবং ফল পরিবর্তন হলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকাশ করা হবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. শাহাদত উল্লাহ জানান, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং পুনঃনিরীক্ষণের ফলে কোন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী ধাপ
ময়মনসিংহের পরিবারগুলো ও বিদ্যালয়গুলোতে ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে। যদিও বোর্ড আশা করছে নিয়মবদ্ধভাবে পুনঃনিরীক্ষণ সম্পন্ন হলে বহু শিক্ষার্থীর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠবে, তবে এই ঊর্ধ্বমুখী আবেদন প্রবাহ প্রশাসনিক চাপ বাড়াবে—বিশেষত কাগজপত্র যাচাই ও পুনঃনিরীক্ষণের শৃঙ্খল বজায় রাখতে। বোর্ডের কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সূচি অনুসরণ করেই প্রগতি করবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই মৌসুমে ময়মনসিংহ বোর্ডের অর্জিত পাসের হার ও পুনঃনিরীক্ষণের বিপুল সংখ্যার ফলে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আলোচনা তীব্র হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। আগামীদিনে বোর্ড ও মন্ত্রণালয় কী ধরনের নির্দেশনা ও সহায়তা দেয়, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চেয়ার ঢাল রেখে দেখছে।