ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা চলমান রয়েই গেছে। হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২২টি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে এবং একই সময়ে ২৫ শিশুকে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এসময় হাসপাতালটিতে আরও ২ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।
মোট সংক্রমণ ও মৃত্যু—অবস্থা কী
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩ হাজার ৪৬১ শিশু ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রেকর্ড অনুযায়ী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৫ শিশু, এবং মৃত্যু হয়েছে ৭০ শিশুর। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৮৬ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
“হামের প্রকোপ এখনো কমেনি। প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আবার চিকিৎসা নিয়ে অনেক শিশুই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে,”
মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত দু’দিনে পাঁচ মাস ও সাত মাস বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই অথবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই মৃত্যু ঘটে।
চিকিৎসা-সুবিধা ও উদ্বেগ
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে হাসপাতালটিতে কোনো আইসিইউ স্থাপন করা হয়নি। গভীরভাবে অসুস্থ শিশুদের নিবিড় পরিচর্যার অভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছে।
- গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি: ২২ শিশু
- গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্রপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা: ২৫
- বর্তমানে চিকিৎসাধীন: ৮৬ শিশু
অধিক তথ্য থেকে প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রকাশিত সংখ্যাগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আগমন ক্রমাগত হচ্ছে — একই সঙ্গে কিছু শিশুর গুরুত্বপূর্ন অবস্থার কারণে মৃত্যুও হচ্ছে। আইসিইউ না থাকায় সেক্ষেত্রে সেভাবে নিবিড় চিকিৎসা দিলে মৃত্যুর হার কমত কিনা তা এখনই বলা কঠিন, তবে স্বাস্থ্যসেবায় পর্যাপ্ত বিশেষায়িত সুবিধা না থাকাটা উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
অপরদিকে গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে মোট ভর্তি ও ছাড়পত্রের সংখ্যার পার্থক্য দেখাচ্ছে যে হাসপাতালে রোগী চলাচল দ্রুত: কিছু শিশুই দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। তবে মোটিকালে গত কয়েক মাসে ৩ হাজারের বেশি শিশু ভর্তি হওয়া ও ৭০টির বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হওয়ার তথ্য জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ ও দুর্বলতাকে তুলে ধরে।
পরবর্তী পথ ও সতর্কবার্তা
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বোঝা যায়—বর্তমানে রোগ ঠেকাতে আরোগ্যকেন্দ্রগুলোতেই পর্যাপ্ত সেবা ও সতর্কতা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জলের নিরাপত্তা, শিশুরা যদি ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ দেখায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া—এই সতর্কতাগুলো জরুরি। একই সাথে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে এই রোগীর চাপ সামলাতে প্রয়োজনীয় আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা দ্রুত বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট ভর্তি (মার্চ-মঙ্গলবার) | ৩,৪৬১ |
| চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো | ৩,৫ |
| মোট মৃত্যু | ৭০ |
| বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন | ৮৬ |
মমেকের সহকারী পরিচালক ডা. মাইন উদ্দিন হাসপাতালের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও সংখ্যাগত তথ্য নিশ্চিত করলেও, রোগের প্রকৃতি, কারণ নির্ধারণ বা প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরকারি সংস্থাগুলোকে দ্রুত পরীক্ষামূলক, পরিবেশগত ও চিকিৎসাশাস্ত্রীয় অনুসন্ধান করে জনগণকে তত্ত্বাবধানমূলক নির্দেশনা দিতে হবে।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে হাসপাতালের অবস্থার উন্নয়ন, দ্রুত আইসিইউ প্রতিষ্ঠা এবং শিশুমৃত্যু রোধের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। ময়মনসিংহবাসী ও শিশুমাতৃত্বকালীন পরিবারের জন্য এখন সময় জরুরিভিত্তিক সতর্কতা, রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর।