ফেনীতে ডেঙ্গু রোগী বাড়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে; জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী গত জুলাই মাসে যেখানে মোট ৭২ জন শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে অগস্টের ২৭ তারিখের মধ্যে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে। বহুগুণ রোগী চাপের ফলে রোগীরা প্রধানত ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যেখানে শয্যা আর ডাক্তার-নার্সের ওপর অতিরিক্ত ভর যুক্ত হওয়ায় সেবা দিতে কষ্ট হচ্ছিল।
হাসপাতালে চাপ ও সেবার তত্ত্বাবধান
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় একই ওয়ার্ডে রোগীদের গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত কাজের ফলে ক্লান্তি দেখা দিচ্ছে। রোগীর আত্মীয়স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, শহরের নর্দমা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা কাজ করছে না, ফলে পচা পানি জমে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি ও পৌরসভার কাজ
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, ডেঙ্গু শনাক্তকরণের জন্য এনএস-১ কিটসহ পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আরও সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পরীক্ষায় কোনো সংকট হবে না।
"ডেঙ্গু পরীক্ষার এনএস-১ সহ প্রয়োজনীয় কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আরও সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।" — ডা. মোবারক হোসেন দুলাল, ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক, ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল
অন্যদিকে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক মো. দিদারুল আলম জানান, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে দুটি করে দিন ধরে মোট ৩৬ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি চলছে। তিনি বলেন, মশা নিধনে স্থানীয় মানুষের সচেতনতা জরুরি এবং সে লক্ষ্যে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে শহরের নানা এলাকায় ড্রেনাসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকায় সাধারণ মানুষ কাজগুলোর সুফল মাঠ পর্যায়ে দেখছে না বলে জানান ভূগতমান ইউজাররা।
নাগরিক উদ্বেগ ও ভূমিকা
পৌরস্থ থাকবে এমন একাধিক এলাকায় নর্দমা ও গলির ড্রেন নি¤œমানের কারণে জলজমা হতে থাকে, যা এডিস মশার জন্য উৎকৃষ্ট প্রজননস্থল তৈরি করে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘরের ভেতরে ও আশেপাশে মশার কামড়ে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রোগীদের স্বজনেরা দ্রুত কার্যকর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ড্রেন-মেরামত এবং নির্দিষ্ট সময়ে ত্রাণমূলক ওষুধ সরবরাহ দাবি করছেন।
প্রতিরোধ ও তাত্ক্ষণিক করণীয়
স্বাস্থ্যবিদরা ও প্রশাসন দুপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণ জনগণকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুশীলন করতে বলা হচ্ছে:
- বাড়ি ও আশপাশের ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা წყল পরিষ্কার করা।
- পানির ট্যাংক, ফ্লাওয়ার পট ইত্যাদিতে পানি জমতে দেবেন না।
- জরুরি ক্ষেত্রে ডা.-র পরামর্শ নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা (এনএস-১) করানো।
- শরীরে অতিরিক্ত জ্বর, পিঠব্যথা বা রক্তাল্পতা লক্ষ করলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা।
তথ্যসূত্র এবং পরিস্থিতির সম্ভাব্য রূপ
জেলার পরিসংখ্যান ও হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখনই দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। পৌর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে তারা মশা নিধন ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে তার ওপরেই পরবর্তী প্রভাব নির্ভর করবে।
| আইটেম | সংখ্যা/তথ্য |
|---|---|
| জুলাই মাসে শনাক্ত রোগী | ৭২ |
| অগস্টে (২৭ তারিখ পর্যন্ত) শনাক্ত রোগী | ১১৫ |
| প্রধান চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান | ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল |
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা দ্রুত কার্যকর করা না হলে সামনের সপ্তাহগুলোতে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশেষভাবে সংবাদমাধ্যম ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্বেগের কারণ রয়েছে। স্থানীয় জনগণকে স্বভাবতই সতর্ক থাকতে হবে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।
রিপোর্ট: আবদুল হালিম
ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS