সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে আব্দুল্লাহ আল জাবের নামে এক নেতাকে দায়িত্ব দিয়ে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তিনি উল্লিখিত ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এবং সূত্রে বলা হয়েছে যে তার সংগঠন বর্তমানে নিষিদ্ধ। শনিবার রাতে উপজেলা প্রশাসন নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করলে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
নিযুক্তির পেছনের প্রক্রিয়া ও আবেদনের পরিসংখ্যান
উপজেলা প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২ আগস্ট এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৪ আগস্ট. দুটি পদে মোটে ছয় শতাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। প্রশাসন প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় মোট ১৭৫ জনের নাম অনুচিত পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
| পদ | পরীক্ষার তারিখ | মোট আবেদন | ফলাফল প্রকাশিত |
|---|---|---|---|
| সুপারভাইজার | ২ আগস্ট | দুটো-পদের সম্মিলিতভাবে ছয় শতাধিক | ১৭৫ |
| তথ্য সংগ্রহকারী | ৪ আগস্ট | — |
স্থানীয়দের অভিযোগ ও উদ্বেগ
নির্বাচিত তালিকায় ওই নেতার নাম প্রকাশ পেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অভিযুক্তদের বক্তব্যে বলা হয়েছে যে, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে দায়িত্ব দেয়ার আগে প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা উচিত। সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু এ প্রসঙ্গে বলেন,
“ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচির দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কীভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।”
স্থানীয় সচেতনরা উল্লেখ করেছেন যে, তথ্য সংগ্রহকারী ব্যক্তির পরিচিতি ও রাজনৈতিক কুশীলবিতা যদি যাচাইবিহীন থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে তথ্যের গুণগত মান ও কার্যক্রমে আস্থা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আরও বলেছেন যে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নাগরিকের সরকারি সুবিধা ও পরিচয়সংবলিত দিক সংক্রান্ত, তাই এর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
উপজেলা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারজান হোসাইন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে, সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কাছে দু’জনের সম্পর্কে অভিযোগ এসেছে। তিনি বলেছেন যে অভিযুক্তদের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের ভাষ্যে, আপাতত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং অভিযোগ প্রক্রিয়ায় গৃহীত হলে কাঙ্খিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অফিস সূত্রে জানা গেছে যে নির্বাচনের সময় সরাসরি যাচাই-বাছাই ও পটভূমি নির্ণয়ের জন্য লিখিত অভিযোগের গুরুত্ব রয়েছে। ইউএনওর উক্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসন অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী সম্ভাব্য পথ
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি এলাকার মানুষজনের সরকারি সেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই তথ্য সংগ্রহকারী ও শুমারির অন্যান্য পদে নিয়োগের স্বচ্ছতা বজায় না থাকলে জনগণের আস্থা কমতে পারে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে এ ধরনের বিষয় দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ঝটকা দিতে পারে—বিশেষত যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ।
- চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে; দুইজনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ রয়েছে।
- উপজেলা প্রশাসন বলেছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণকারীরা পূর্বেই বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ্যতা-চেক অপরিহার্য।
এ নিয়ে যদি লিখিত কোনো অভিযোগ পেশ করা হয় এবং প্রশাসন কোন সিদ্ধান্ত নেয়, সেই তথ্য পাঠকদেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা বিশদভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।