ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির আপিল এবং জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে দীর্ঘ শুনানি শেষ হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আজ শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
শুনানির পর রায়ের দিন নির্ধারণ
হাইকোর্টে আজ (২০ আগস্ট) বিভিন্ন আইনগত ও প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে শুনানি সম্পন্ন হয়। শেষ পর্যায়ে বেঞ্চ রায়ের জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে। মামলার পেপারবুক এবং ডেথ রেফারেন্সের নথি ইতোমধ্যে আদালতের কাছে রয়েছে; সেই কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করে উচ্চ আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তিরত করবে।
মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনা ও আদালত-দফা
মামলার দিকে ফিরে গেলে দেখা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ। পরে একই বছর ৬ এপ্রিল নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়; গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনাগাজী ও ফেনীর হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয় এবং পরে ঢাকায় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করলে ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২০১৯-০৩-২৭ | ঘটনার সূত্রপাত (প্রাথমিক বিবরণ) |
| ২০১৯-০৪-০৬ | নুসরাতকে মাদ্রাসায় নিয়ে সন্ত্রাসীভাবে অগ্নিসংযোগ |
| ২০১৯-০৪-১০ | নুসরাতের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু |
| ২০১৯-১০-২৪ | নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ |
| ২০১৯-১০-২৯ | ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে প্রেরণ |
| ২০২৬-০৮-২০ | হাইকোর্টে শুনানি শেষ ও রায়ের দিন ধার্য |
আইনি প্রক্রিয়া ও কী রয়েছে নথিতে
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালত যখন কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, সেই রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়—এটিই ডেথ রেফারেন্স। এই মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ জনকে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। এরপরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্টে পৌঁছে এবং প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছিল।
প্রমাণ-সাক্ষী ও বিচারিক কার্যক্রম
ট্রাইব্যুনাল পর্যায়ে মামলাটি দ্রুতগতিতে চলেছিল; মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মোট ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কপূর্বক রায় দেয়া হয়। মামলাটির ফাইলিং, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ—সবকিছু বিবেচনা করে আজ হাইকোর্ট তার সিদ্ধান্ত দিতে যাচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ফলের প্রভাব
ফেনীজুড়ে এ মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে জনমতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ন্যায়বিচার ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নজর ছিল। হাইকোর্টের রায় কিভাবে হবে তা না জানালে—আরও একটি উচ্চ আদালতীয় অবস্থান দেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে যেতে পারে।
পরবর্তী কার্যক্রম
- রায় ঘোষণার দিন হলো ২৪ আগস্ট—তার আগে কোন পক্ষ থেকে পুনরায় আইনগত হস্তক্ষেপ বা অনুরোধ করলে আদালত তা বিবেচনা করবে।
- রায় ঘোষণার পর পুনরায় আপিলের সুযোগ থাকলে তা ভবিষ্যত কার্যবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
- স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থা রায় কার্যকরের পূর্বে নিরাপত্তা ও আইনি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।
মামলার এ পর্যায়ে আদালতের পরবর্তী রায়ই চূড়ান্ত বিচার প্রয়োগে সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘ শুনানি ও বিস্তারিত নথিপত্র পর্যালোচনার পর হাইকোর্টের রায় কবে ও কীভাবে কার্যকর হবে, তা আগামী রায়ে নির্ধারিত হবে। স্থানীয় সমাজ ও ন্যায়প্রতিক্ষার পক্ষে ওই রায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফেনী থেকে প্রকাশক: আবদুল হালিম, ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS