ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা সংকেত থাকা সত্ত্বেও এখানে রোগীর সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেশি—এমন আশঙ্কা ও চিত্র তুলে ধরে হাসপাতালে গত বুধবার পরিদর্শনে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতকে ‘ঢেলে সাজানোর’ চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পরিদর্শনে দৃশ্যপট ও সেবা বিষয়ক মন্তব্য
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন, ডায়ালাইসিস বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড, স্পেশাল কেয়ার নবজাতক ইউনিট, মেডিসিন ওয়ার্ড, আইসিইউ, হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রে যান এবং রোগী ও চিকিৎসক অপারেটিভদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময়ে জেলার জেলা প্রশাসক, হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের উপস্থিতি ছিল।
“সরকার স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে সরকার থেকে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে,”
ড. জিয়ার একাধিক পর্যবেক্ষণ ছিল—একটি হচ্ছে শয্যার তুলনায় হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা ৪–৫ গুণ বেশি হওয়ায় বেড সংকট প্রকট। এ কারণে রোগীদের সেবা দিতে বর্তমানে থাকা জনবলকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হয় এবং সেবা প্রদান করাতেই সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের চিত্র সারাদেশে অনেক হাসপাতালের ক্ষেত্রেই দেখা যায় এবং জনবল বৃদ্ধি সহ সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও ব্যাখ্যা
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ড. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন, হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল ও আর এম ও মো. রুকনুজ্জামান পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন সংকটের সঙ্গে পরিচিত এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
- পরিদর্শিত বিভাগগুলোর তালিকা — প্রশাসনিক ভবন, ডায়ালাইসিস, জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড, নবজাতক স্পেশাল কেয়ার, মেডিসিন, আইসিইউ, হাই ডিপেনডেন্সি, শিশু বিকাশ কেন্দ্র।
- প্রকৃত বেডসংখ্যা — ২৫০ (সরকারি হিসাব অনুযায়ী)
- তদন্তে প্রধান সমস্যা — বেডের তুলনায় রোগীর বড় সারি, জনবল ঘাটতি
বাজেট বৃদ্ধি ও নীতিগত পরিবর্তনের আভাস
ড. জিয়া বলেন গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতকে দলীয়করণ করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সেই অবস্থার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে বলে জানান। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এই বাজেট বৃদ্ধির ফলে সেবা সম্প্রসারণ, জনবল নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব হবে—যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়।
ফেনীর রোগী-পরিবেশে প্রভাব ও প্রত্যাশা
হাসপাতালের বেড-জনবল অনুপাতের কারণে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন—এমন অভিজ্ঞতা স্থানীয়রা জানান। আর্থিকভাবে দুর্বল রোগীরাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হন; তারা সময়মত সেবা না পেয়ে বাড়িতে ফিরে চিকিৎসার সুযোগ হারান। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-প্রতিনিধিরা বলছেন, সাময়িকভাবে সারচার্জ বা বহির্বিভাগ পরিষেবা দিয়ে চাপ সামলানো যায়, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য বাড়তি কর্মী নিয়োগ, নতুন শয্যা সংযোজন এবং বিভাগীয় সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হাসপাতালের শয্যা | ২৫০ |
| প্রধান সমস্যা | বেশি রোগী বনাম সীমিত শয্যা ও জনবল |
| পরিদর্শক | ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার (প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী) |
পরবর্তী পদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রত্যাশা
অফিসিয়াল পর্যায়ে বাজেট বৃদ্ধি ও নীতিগত সংশোধন ইতিবাচক সংকেত দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে তা কীভাবে বাস্তবে রূপ নেয়—এটাই এখন মূল প্রশ্ন। জেলা ও হাসপাতাল প্রশাসনকে দ্রুত কর্মী নিয়োগ, জরুরি শয্যা বাড়ানো এবং বিভাগসমূহের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন পরিদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে রোগী সেবায় দৃশ্যমান উন্নতি হবে এবং বেসরকারি সুবিধা না নিলেও সরকারি সেবায় চাপ হ্রাস পাবে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের রোগী-পরিবার, চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেখতে পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত বাজেট বৃদ্ধির সুবিধা কিভাবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই আগামী মাসগুলোতে নজরদারি ও মূল্যায়নের বিষয় হবে।