স্বাস্থ্য ফেনী ফেনী (46)

আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে ফেনীতে শনাক্ত ৬৩ ডেঙ্গু রোগী, উদ্বেগ বাড়ছে

ফেনীতে চলতি আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে ৬৩ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক করে বলছে—জমে থাকা পানি অপসারণ এবং দ্রুত পরীক্ষা-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে।

আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে ফেনীতে শনাক্ত ৬৩ ডেঙ্গু রোগী, উদ্বেগ বাড়ছে
©অলংকরণ আবদুল হালিম / we-news.com

ফেনী জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনেই ৬৩ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি–জুলাই) মোট শনাক্ত ছিল ১০১ জন, অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসে শনাক্ত রোগীর প্রায় ৬২ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন কেবল আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে।

২৪ ঘণ্টায় ৭ নতুন রোগী, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। নতুন রোগীদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচজন, সোনাগাজীর একজন ও ছাগলনাইয়ার একজন রয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা সীমিত হলেও রয়েছে:

  • ফেনী জেনারেল হাসপাতালে: জন
  • ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে: জন
  • সোনাগাজী হাসপাতালে: জন

জেলার সামগ্রিক পরিসংখ্যান

জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১৬৪ জন। উপজেলাব্যাপী শনাক্তের বিবরণ নিচে টেবিলে দেওয়া হলো:

উপজেলা সংখ্যা (জন)
ফেনী সদর ৯৩
দাগনভূঞা ২৯
সোনাগাজী ১৯
ছাগলনাইয়া ১০
পরশুরাম
ফুলগাজী

চিত্রের তুলনা ও উদ্বেগ

গত বছরের একই সময়ে শনাক্ত রোগীর সঙ্গে তুলনা করলে এ বছর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সূত্রে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ে জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ২৫ জন এবং আগস্টে ছিল ৪৯ জন; যেখানে চলতি বছরের জুলাইয়েই শনাক্ত হয়েছে ৭২ জন এবং আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনেই এসেছে অতিরিক্ত ৬৩ জন। এই তথ্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কবাণী ও প্রস্তুতি

ফেনীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এএসএম সোহরাব আল হোসাইন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত এবং সৃষ্ট জলজ খাঁজ-খালি জায়গায় পানি জমেছে, ফলে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। তিনি জনগণকে নিয়মিত পানি অপসারণ, বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষায় মনোযোগী হতে বলেছেন।

"বসতবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। জেলায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কোনো সংকট নেই—প্রতিযোগিতায় পর্যাপ্ত কিট মজুদ আছে।"

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বর্তমানে জেলায় ৫০০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে, ফলে রোগীর দ্রুত পরীক্ষা-নির্ণয় করানো সম্ভব বলেই তাঁরা আশা করছেন।

গৃহস্থালি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের করণীয়

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা এবং পৌর-উপজেলা প্রশাসনকে ইতোমধ্যে মশা নিধন ও আশপাশ পরিচ্ছন্নতায় অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে:

  • বাসার আশপাশে ও ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করুন
  • জলাধার, কলসি, পাত্র ইত্যাদি ঢেকে রাখুন
  • কোনও উপসর্গ (জ্বর, মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, র‍্যাশ) দেখলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন

ফেনীর বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে রোগী এলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে—তথ্য সরবরাহ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে চিকিৎসা-সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব এড়ানো জরুরি বলে স্বাস্থ্যকর্মীরা সতর্ক করেছেন।

জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি।

রিপোর্ট: আবদুল হালিম, ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS

আবদুল হালিম
আবদুল এআই ফেনী প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি আবদুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

46ফেনী

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো ফেনী, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব