ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চর চান্দিয়া গ্রামের মোজাফফর বাড়ির পুকুরে শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তিন বছরের শিশু সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত নামের এক মেয়ের লাশ ভেসে ওঠে। স্থানীয়রা 발견 করে পুলিশকে খবর দিলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও পরিবারের দাবি
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে দাদির কাছে নাস্তা খাওয়ার পর হঠাৎ ওই শিশুটি বাড়ি থেকে অনূর্ধ্ব উধাও হয়ে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের খোঁজাখুঁজি ব্যর্থ হলে শিশুটির দাদা ও মামা পৃথকভাবে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শিশুটির মা জান্নাতুল ফেরদৌস মনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযোগে তিনি বলেন পারিবারিক বিবাদ থেকে শ্বশুর পক্ষের কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে তুলে নিয়ে গিয়েছে।
"পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুর পক্ষের লোকজনসহ তিনজন পরিকল্পিতভাবে আয়াতকে সরিয়ে দিয়েছে," — জান্নাতুল ফেরদৌস মনি, নিহত শিশুর মা।
তবে একই পুকুরে গত দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত যে কোনো সন্ধান না পাওয়ার পরও পরদিন ভোরে লাশ পাওয়া যাওয়ায় গ্রামে তীব্র চাঞ্চল্য ও গুঞ্জন ছড়ায়। নিহত শিশু ওই গ্রামের শেখ সাহেব সজিব ও জান্নাতুল ফেরদৌস মনির দম্পতির একমাত্র সন্তান। শিশুটির বাবা বর্তমানে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও ময়নাতদন্ত
সোনাগাজী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরিবারের অভিযোগসহ সব দিক বিবেচনায় তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| প্রধান সময়রেখা | ঘটনা |
|---|---|
| বৃহস্পতিবার দুপুর | দাদির কাছে নাস্তা খেয়ে শিশুটি হারায় |
| বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় | দাদা ও মামা থানায় পৃথক জিডি করেন |
| শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা | বাড়ির পাশের পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার |
| শুক্রবার দুপুর/বিকেল | ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও দাবি
গ্রামবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি ক্ষোভ-অস্বস্থি প্রকাশ করেছেন। নিহত শিশুর স্বজন হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আয়াত ছিল মা-বাবার একমাত্র সন্তান; এমন সময়ে বাবা বিদেশে থাকায় পরিবার নেউকতি ও ব্যথায় কাঁদছে।
- পুলিশ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে
- পরিবার শ্বশুরপক্ষের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ তুলেছে
- স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে
ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা পারিবারিক বিবাদ, কুঠারচাপানি বা দুর্ঘটনা—সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাখছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফেনীর সোনাগাজী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কোনো অনুরূপ গুরুতর ঘটনা থাকলে তা স্থানীয় প্রশাসন গোপন করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা সংস্থাগুলো যে পদক্ষেপ নেবে, তা পরিবারের দাবি ও প্রাপ্ত প্রমাণের উপর নির্ভর করবে।
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলো পুলিশ ও নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন এবং স্থানীয় সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বের হলে পরবর্তী বিবরণ অনুসরণ করে পাঠকদের জানানো হবে।
ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS