ফেনীতে পরকীয়া ও যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা করার দায়ে আদালত এক রায়ে একরামুল হক ছুট্টুকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়া জরিমানার অর্থ না দেয়ার ক্ষেত্রে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মামলায় অপর পাঁচ আসামিকে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন।
কী ঘটনা ঘটেছিল
আদালতের বিবরণ ও মামলার নথি অনুযায়ী, নিহতের নাম আরজিনা আক্তার। ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ফেনী পৌরসভার বারাহীপুর এলাকার আরজিনার সঙ্গে একরামুল হক ছুট্টুর বিয়ে হয়। বিবাহের কয়েক দিনের মধ্যে থেকে ছুট্টুর অন্য একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারে কলহ দেখা দেয়। পরে ছুট্টু আরজিনার পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে।
দমন-বিরোধী বিবাদ ও নির্যাতনের এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট রাতে আরজিনা মারা যান এবং পরের দিন তার দাহ-সমাধি করা হয়। পরিবার মামলা দায়ের করে। ঘটনায় মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আদালতের রায় ও বিচার কার্যক্রম
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের আলোকে একরামুল হক ছুট্টুকে দোষী সাব্যস্থ করে মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালত একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন।
"নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন,"
এই রায়ে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন। আদালত ছয় জন আসামির মধ্যে অপর পাঁচ জনকে অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস করেছেন।
আদালতে থাকা ও পলাতক আসামি
রায়ে অভিযুক্ত একরামুল হক ছুট্টু বর্তমানে পলাতক। তিনি দাগনভুইয়া উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের মালেক মাস্টার বাড়ির সৈয়দ আহমদের ছেলে। রায় জানার পর থেকেই তার গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
| আইটেম | তথ্য |
|---|---|
| নিহত | আরজিনা আক্তার |
| প্রধান অভিযুক্ত | একরামুল হক ছুট্টু (পলাতক) |
| আদালত | ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল |
| রায় | মৃত্যুদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা; জরিমানার অর্থ না-পেলে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও মামলার ইতিহাস
নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করলে দাগনভুইয়া থানায় একটি হত্যার অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন নিহতের মামা মীর হোসেন দুলাল। পরবর্তী তদন্তে আরও পাঁচ জনকে আসামি করা হলেও ট্রাইব্যুনালের বিচার শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেয়া হয়।
স্থানীয় মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের জন্য এটি দীর্ঘদিন আলোচিত একটি ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। বিচারিক সিদ্ধান্ত পরিবারের কাছে ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ বলে এক অংশ সমাজ মনে করছে। অন্যদিকে ছুটি পাওয়া অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের বিষয়টি এখন স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে প্রধান চাহিদা হিসেবে উঠতে পারে।
পঠিত ও করণীয়
- পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।
- মরণদণ্ড-সংক্রান্ত আপিলের যৌক্তিকতা ও পরবর্তী ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ আদালত এলাকায় আলোচনা বাড়াবে।
- নারী নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও আইনি সহায়তা শক্তিশালী করার প্রয়াস নিতে হবে।
এ খবরটি সরকারি নথি, আদালতের রায় এবং মামলার প্রকাশিত বিবরণকে ভিত্তি করে প্রণীত। রায়-সংক্রান্ত পরবর্তী আপডেট, গ্রেপ্তার কিংবা আপিল সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টে যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।
ফেনী থেকে রিপোর্ট করেছেন: আবদুল হালিম, ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS