ফেনীর সোনাগাজী এলাকায় ২০১৯ সালে ঘটানো নুসরাত জাহান রাফির হত্যাসহ সংযুক্ত মামলায় হাইকোর্ট সোমবার (২৪ আগস্ট) দেওয়া রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং চারজনের সাজা জাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করেছেন। একই সঙ্গে ১০ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায়ের সারমর্ম
বিচারপতিদের — বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ—রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মূলত নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) নিষ্পত্তি করা হয়েছে। রায়ে মৃতুদণ্ড বহাল রাখা আসামিদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম (২০)।
আদালত চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে জাবজ্জীবন করেছে। তারা হলেন — উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা। এছাড়া ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে; তালিকাভুক্ত কয়েকজনের মধ্যে নাম রয়েছে মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন ও কামরুন নাহার মনি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নিম্ন আদালত সম্পর্কে নির্দেশ
রায়ে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণাকারী বিচারক সংক্রান্ত গুরুতর পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালত বলেছে, ওই বিচারে যে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োজন তা প্রদর্শন করা হয়নি; বিশেষত এক হত্যাকাণ্ডে একসঙ্গে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া খুবই অনুপাতহীন বলে মন্তব্য করেছে বেঞ্চ। ফলে মামলাটির ন্যায্য নিষ্পত্তি সুনিশ্চিত করতে ওই বিচারককে বিচারের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
“এই মামলার নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ—তার সম্পর্কে আদালত বলেছেন, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অনেকটা মাইন্ডলেস সেন্টেন্স। অর্থাৎ, আদালতে বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে জুডিশিয়াল মাইন্ড থাকা দরকার, তিনি সেটা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।”
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পালন করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। অভিযুক্তদের পক্ষে উপস্থিত রয়েছেন তাঁদের আইনজীবীরা—অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
- মৃত্যুদণ্ড বহাল: ২ জন — সিরাজ উদদৌলা, শাহাদাত হোসেন শামীম
- জাবজ্জীবন কারাদণ্ড: ৪ জন — উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ, ইফতেখার হোসেন রানা
- বেকসুর খালাস: ১০ জন — মধ্যে মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি ইত্যাদি
ফেনীতে প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
ফেনী ও সোনাগাজী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মামলাটির ফলাফল নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে তীব্র আগ্রহ ছিল। রায় ঘোষণার পরে স্থানীয় আইনজীবী, মানবাধিকার ইস্যুতে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও পরিবারের প্রতিনিধিদের পরবর্তী আপিল বা অভ্যন্তরীণ আইনি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে নজরদারি থাকতে পারে। হাইকোর্টের এ রায়ে অভিযুক্তদের শাস্তি ও খালাসের তালিকা নির্দিষ্ট হওয়ায়, যাদের উপরে সাজা বহাল রয়েছে তারা যদি উপরি আদালতে পুনরায় আপিল করেন, তবে তার প্রক্রিয়া দেশের বিচারব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী চলবে।
| বিচারধারা | সংখ্যা |
|---|---|
| মৃত্যুদণ্ড বহাল | 2 |
| জাবজ্জীবন | 4 |
| খালাস | 10 |
রায়ে উল্লিখিত সব তথ্য এবং আদালতে উপস্থাপিত বিবরণগুলো আদালতপত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের পাওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। ফেনীর স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ এখন এই রায়ের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পথ অনুসরণ করবে।
ফেনী থেকে রিপোর্টিং করে WE NEWS।