জেলা প্রশাসকের কাছে নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি পেশ
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসকের সামনে নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ, ফেনী জেলা শাখা নেতৃত্ব ও সংগঠনের সমর্থকরা স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিটি জেলা প্রশাসক মনিরা হকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নোয়াখালীকে স্বনামে দ্রুত বিভাগ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা উচিত। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এ উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রশাসনিক সেবা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
কারা ছিলেন উপস্থিত
- নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক সাইফুর রহমান রাসেল
- ফেনী জেলা শাখার সভাপতি ও জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের জেলা শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুরুল আফসার
- সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম
- সংগঠনের ফেনী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন আলমগীর
- নির্বাহী সদস্য খালিদ হাসান মিরাজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ—আবু সুফিয়ান, নাজনুল হাসান, দেলোয়ার হোসেন লিটন, মোহাম্মদ সৈকত ও মাইন উদ্দিন রানা
সংগঠনের নেতারা স্মারকলিপি প্রদানকালে জোর দিয়ে বলেছেন, এই দাবি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রতিফলন নয়, বরং বৃহত্তর নোয়াখালীর সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং প্রশাসনিক উন্নয়নের যৌক্তিক দাবিই তাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
“নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের দাবি নয়; এটি বৃহত্তর নোয়াখালীর সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক উন্নয়নের যৌক্তিক দাবি।”
আশা-প্রত্যাশা ও আন্দোলনের প্রবণতা
অংশগ্রহণকারীরা জানান, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর একসাথে করে প্রস্তাবিত বিভাগের বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে এবং জনসেবায় গতি আসবে। তাঁরা উল্লেখ করেন যে অঞ্চলটির পারস্পরিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক বন্ধন বহুদিনের এবং সেসব কারণ দিয়েই বিভাগ ঘোষণাই যুক্তিযুক্ত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা ডিসির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানো স্মারকলিপি সরকারের তরফে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ছোট তালিকা-টেবিল: প্রস্তাবিত বিভাগ সংক্রান্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রস্তাবিত জেলার নাম | নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর |
| প্রধান দাবির ভিত্তি | ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব |
| আন্দোলনের ধরণ | শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি |
ফেনীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও স্মারকলিপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং দাবি জানান যে সরকারের তৎপর পদক্ষেপ নিলে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
স্মারকলিপি প্রদানের পর আন্দোলনকারীরা জানান, তারা প্রয়োজনে আরও সংগঠিত কর্মসূচি ও জনসমর্থন জোরদার করে সরকারি দফতরে তাদের দাবি পৌঁছে দেবেন। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রেরণ প্রসঙ্গে তারা আশাবাদী যে কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
ফেনীর স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারিভাবে এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি; তবে স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছানো হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মূল্যায়নযোগ্য বিষয় হচ্ছে— প্রশাসনিক সীমারেখা বদলে গেলে স্থানীয় জনসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কেমন প্রভাব পড়বে। ফেনীবাসী ও বৃহত্তর নোয়াখালীর নাগরিকরা এ দাবির বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
— ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS