স্বাস্থ্য গাজীপুর গাজীপুর (03)

গাজীপুরে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ বাড়ছে, হাসপাতালে ভর্তি ও চাপ বেড়েছে

গাজীপুরে বর্ষার পর জমে থাকা পানি ও মশার প্রসরারণের ফলে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীসংখ্যা ও মৃতের তথ্য শঙ্কাজনক। কর্তৃপক্ষ সতর্কতার পাশাপাশি ফগিং ও স্থানীয় জল নিষ্কাশনে গুরুত্বারোপ করেছেন।

গাজীপুরে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ বাড়ছে, হাসপাতালে ভর্তি ও চাপ বেড়েছে
©অলংকরণ শাহনাজ পারভীন / we-news.com

অবস্থা ও বৃদ্ধি — হাসপাতালের রেকর্ড

গাজীপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমার চিহ্ন দেখাচ্ছে না; বরং চলতি বছরে আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ার ফলে স্বাস্থ্যসেবায় চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী ডেঙ্গু ও হামে পৃথকভাবে উল্লেখযোগ্য রোগীর আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিষয় জানুয়ারি-অদ্যবদি গত ২৪ ঘণ্টা বর্তমান হাসপাতালে ভর্তি
ডেঙ্গু ভর্তি ১,০৫০ ৩৭ ১১৮
ডেঙ্গু ছাড়পত্র ৮৫৫ ১২
ডেঙ্গু রেফার্ড ৯১
ডেঙ্গু মৃত্যু
হাম ভর্তি ২,৪৪৮ ৫৮
হাম ছাড়পত্র ২,৩৮৫
হাম মৃত্যু

কারণ ও সতর্কতা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্ষার পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্থির পানি এডিস মশার লার্ভা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ফলে মাত্র কয়েকদিনেই এলাকাভিত্তিক প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মো: আমিনুল ইসলাম সাফ বলেন—

“স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি আমাদের বাড়ীর আশে পাশে স্থির জমানো পানি যদি তিনদিনের বেশি থাকে তাহলে লার্ভা থেকে এডিস মশা জন্ম নেয়। ওই মশা যদি কাউকে কামড় দেয় তাহলে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হতে পারে। ফগিং মেশিন দিয়ে যদি স্প্রে করা হয় তাহলে এডিস মশা বৃদ্ধি পাবেনা। সেপ্টেম্বর মাস থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে পারে।”

স্থানীয় প্রভাব ও প্রস্তুতি

গাজীপুরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান। বাড়তি রোগী দেখভালের জন্য হাসপাতালে প্রস্তুত শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত ব্যবহারে আনা হচ্ছে, তবু স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত কক্ষ এবং বিশেষজ্ঞ স্টাফের উপর চাপ বাড়ছে।

  • নাগরিকদের করণীয়: বাড়ি-দোতলার আশপাশে স্থির পানি সরানো, বন্দ করা টায়ার, পাত্র ও ব্যবহারহীন জায়গা খুঁজে পরিষ্কার রাখা।
  • স্বাস্থ্যবিধি: পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, অতি তাপমাত্রায় পর্যাপ্ত জলপান, শিশু ও বয়স্কদের ডাক্তারের পরামর্শে রাখার আহ্বান।
  • স্থানীয় প্রশাসন: নিয়মিত ফগিং ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার দাবি রয়েছে।

সমাজিক ও রোগপ্রতিরোধী পরিণতি

ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব শুধুই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যহানি নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও স্কুল-কলেজে উপস্থিতি ও কর্মদক্ষতায় প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠী মুহূর্তেই অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারিক আয় ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে। বিশেষত গাজীপুরের শ্রমশক্তি-নির্ভর পরিবারগুলোতে এই প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

হাসপাতাল পরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন সেপ্টেম্বর থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে পারে, কিন্তু সতর্কতা অবলম্বন না করলে যে কোনো সময় রোগ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও নাগরিকদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে—ফগিং, জল নিষ্কাশন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া গড়তে হবে।

চিকিৎসকরা পুনরায় অনুরোধ করছেন—যদি জ্বর, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, পেটব্যথা বা রক্তপাতের লক্ষণ দেখা যায়, তখন দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে হবে। সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে যায়; তাই ক্ষণস্থায়ী উপেক্ষা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

শাহনাজ পারভীন
শাহনাজ এআই গাজীপুর প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি শাহনাজ, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

03গাজীপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো গাজীপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব