শিল্পশহরে গ্যাস সংকটের প্রভাব
গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে আঠার হাজারও শ্রমিকের কাজ-ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন রোববার (১৬ আগস্ট) জানান, গ্যাস চাপ কম থাকায় জেলা জুড়ে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজীপুরে মোটও ছোট-বড় মিলিয়নের সংখ্যায় কারখানা রয়েছে; এসবের মধ্যে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি কারখানায় সরাসরি গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গড় উৎপাদন ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে, এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিভাগে—যেমন রঞ্জন/ডাইং—চাপের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে কাজ প্রায় বন্ধ মতো অবস্থা দেখা যাচ্ছে।
- প্রভাবিত প্রতিষ্ঠান: ফুয়াদ স্পিনিং মিলস লিমিটেড (কোনাবাড়ি) সাময়িক বন্ধ; এখানে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কাজ করতেন।
- অন্যান্য উদাহরণ: কালিয়াকৈরের সাদমা ফ্যাশন লিমিটেড ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডেও উৎপাদন কমেছে।
- কারখানার অভ্যন্তরীণ অবস্থা: গ্যাস চাপ না থাকায় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রেখে বসতে হচ্ছে, ফলে অনেকে অকার্যকর সময় কাটাচ্ছেন বা আংশিকভাবে কর্মহীনতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় সরবরাহ ও তৃতীয় পক্ষের পর্যবেক্ষণ
গাজীপুর আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস অফিসের ব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) সাইফুজ্জামান সানি সাংবাদিকদের বলেন,
“কেন্দ্রীয়ভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাজীপুরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ফলে গ্যাস লাইনের শেষ দিকে থাকা কারখানাগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। গ্যাসের চাপ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।”
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ জানায়, গ্যাস সংকটের প্রকৃতি ও প্রভাব যাচাই করতে তাদের টিম বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন যে, গ্যাসের কারণে জেলা জুড়ে কোনও কারখানাই পুরোপুরি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি, তবে কিছু কারখানা উৎপাদন কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বা আংশিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
কর্মচাঞ্চল্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব
কখনো কখনো গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের ফলে বিশেষত পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের রঞ্জন বিভাগে কাজ থেমে থাকছে। ফুয়াদ স্পিনিং মিলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে গ্যাস সংকটের কারণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানাটি লোকসানে চলে, ফলে তারা ১ আগস্ট থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে; কর্তৃপক্ষ বলেছে, গ্যাস পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার উৎপাদন শুরু করা হবে।
শ্রমিক ও কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস চাপ কম থাকার কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে, কেউ কেউ আংশিক সময় কাজ হারাচ্ছেন বা বেতন-যারিতে প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—তবুও পরিসংখ্যানগত বা আর্থিক ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা মালিকানার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
| বিষয় | সংখ্যা/অবস্থা |
|---|---|
| গাজীপুরের মোট কারখানার ধারণা | ৩ হাজারের বেশি |
| প্রভাবিত কারখানা | ৪০০–৪৫০টি |
| কিছু কারখানায় উৎপাদন হ্রাস | গড়ে প্রায় ৪০% |
অবশ্য গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ উভয়ই বলছেন যে সমস্যার সমাধানে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে, তবে কারখানা মালিকরা বলছেন দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে থাকবে।
এই সংকট গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের কর্মজীবী ও অর্থনীতিতে কোন মাত্রায় প্রভাব রাখছে তা বিস্তারিতভাবে জানার জন্য আরো তথ্য সংগ্রহ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ জরুরি। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো আশা করছে দ্রুত গ্যাস চাপ স্বাভাবিক হবে এবং আংশিক বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
গাজীপুর থেকে রিপোর্টিং — শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি, WE NEWS।